ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক বিবৃতিতে জানান, ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাইপলাইন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)—উভয় ধরনের জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়া বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। পেসকভের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই এই চাহিদালিপি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথটি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলো এখন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
এদিকে, এই সংকটের মধ্যেই রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে, যার ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের জন্য আইনি বাধা দূর হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব জ্বালানি রাজনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 



















