নিজেদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে শত্রুপক্ষের হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েক দশক ধরে মাটির গভীরে দুর্ভেদ্য বাঙ্কার বা ‘মিসাইল সিটি’র ওপর ভরসা করে আসছিল ইরান। তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলার মুখে তেহরান তাদের এই দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথের কাছেই ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছু মিসাইল ও লঞ্চার। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের এসব ঘাঁটির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী লঞ্চারগুলো যখনই ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে বাইরে বের হচ্ছে, তখনই সেগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে শিরাজ, ইসফাহান, তাবরিজ ও কেরমানশাহের নিকটবর্তী ঘাঁটিগুলোতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ‘মিসাইল সিটি’ বা ভূগর্ভস্থ করিডোরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রাক চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর বড় সীমাবদ্ধতা হলো প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ। এছাড়া অনেক ঘাঁটিতে মাটির নিচে নির্দিষ্ট ‘সাইলো’ বা গর্ত তৈরি করা হয়েছে যেখান থেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা যায়। দক্ষিণ ইরানের খোরমুজ এলাকায় এমন বেশ কিছু সাইলোর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেগুলোর পুনঃব্যবহার ও কারিগরি জটিলতা তেহরানকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান তার কৌশল পরিবর্তন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল লঞ্চারগুলোকে বাঙ্কার থেকে বের করে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে হামলা চালিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাঙ্কার-বিধ্বংসী শক্তিশালী বোমা রয়েছে, তবে মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত ইরানের মূল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার জন্য সেই সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে গত কয়েক দিনে ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের হার কিছুটা কমেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর দুটি কারণ থাকতে পারে—প্রথমত, উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে অব্যাহত হামলা এবং দ্বিতীয়ত, একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরান হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংরক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত ছিল। কিছু গোয়েন্দা সংস্থার মতে এই সংখ্যা প্রায় ২,৫০০, আবার অনেক বিশ্লেষকের ধারণা এটি ৬,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান তাদের এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারকে সচল রাখতে এবং শত্রুর নজরদারি এড়াতে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের চেয়ে ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল লঞ্চার ব্যবহারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 



















