ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে সড়ক, রেল ও নৌপ‌থে দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭৭ জ‌ন

চল‌তি বছ‌রের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সড়কে। ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৮১ জন।  

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি রা হ‌য়ে‌ছে জা‌নি‌য়ে সংস্থা‌টি বল‌ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮১ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত, নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪ জন ও আহত ৫ জন হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। 

সড়কপথে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এই সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। 

সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন। 

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। 

তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন— ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক ও ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। 

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৬৮৭টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬ দশ‌মিক ৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশ‌মিক ৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস, ১৪ দশ‌মিক ২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশ‌মিক ৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশ‌মিক ৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশ‌মিক ৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার ৪১ দশ‌মিক ৭৪ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩ দশ‌মিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ দশ‌মিক ১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০ দশ‌মিক ২২ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১ দশ‌মিক ১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।  

সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে যেসব বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো— সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং ও সড়ক বাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা ও সড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁকের সৃষ্টি, মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা নেই ইরানের, তবে ইসরায়েলি ও মার্কিন জাহাজের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

ফেব্রুয়ারিতে সড়ক, রেল ও নৌপ‌থে দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭৭ জ‌ন

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

চল‌তি বছ‌রের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সড়কে। ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৮১ জন।  

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি রা হ‌য়ে‌ছে জা‌নি‌য়ে সংস্থা‌টি বল‌ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮১ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত, নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪ জন ও আহত ৫ জন হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। 

সড়কপথে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এই সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। 

সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন। 

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। 

তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন— ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক ও ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। 

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৬৮৭টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬ দশ‌মিক ৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশ‌মিক ৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস, ১৪ দশ‌মিক ২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশ‌মিক ৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশ‌মিক ৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬ দশ‌মিক ৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার ৪১ দশ‌মিক ৭৪ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩ দশ‌মিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ দশ‌মিক ১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০ দশ‌মিক ২২ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ১ দশ‌মিক ১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।  

সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে যেসব বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো— সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং ও সড়ক বাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা ও সড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁকের সৃষ্টি, মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।