ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সোনাভরি নদীতে একটি সেতুর অপেক্ষা: থমকে আছে ৩০ গ্রামের উন্নয়ন

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার সোনাভরি নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। মাত্র ৭০ মিটার প্রস্থের এই নদীটি পারাপারে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট, যার ফলে থমকে আছে ওই অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

ভারত সীমান্তঘেঁষা রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নটি সোনাভরি নদী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এই ইউনিয়নে চরসাজাই, বদরপুর, আনন্দবাজার ও হাতিমারাসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া পাশের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রামসহ মোট ৩০টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন এই নদী পার হতে হয়। এসব চরাঞ্চলে ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের প্রধান উৎপাদিত ফসল হলো ধান, পাট, ভুট্টা, বাদাম ও বিভিন্ন রবি শস্য। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পণ্য রাজিবপুর ও রৌমারীর বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য নদী পার করে নিতে হয়। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়ায় কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও চরাঞ্চলের এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না। গত সরকারের আমলে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “খাজার ঘাটে একটি সেতু আমাদের প্রাণের দাবি। একটি সেতুর অভাবে আমাদের এলাকার মানুষ সুচিকিৎসা ও উন্নত জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা জানান, খাজার ঘাটে সোনাভরি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশিষ্ট রত্ন হুরুন নাহার রশীদের জীবনাবসান, শোকস্তব্ধ আমার দেশ পরিবার

সোনাভরি নদীতে একটি সেতুর অপেক্ষা: থমকে আছে ৩০ গ্রামের উন্নয়ন

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার সোনাভরি নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। মাত্র ৭০ মিটার প্রস্থের এই নদীটি পারাপারে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট, যার ফলে থমকে আছে ওই অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।

ভারত সীমান্তঘেঁষা রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নটি সোনাভরি নদী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এই ইউনিয়নে চরসাজাই, বদরপুর, আনন্দবাজার ও হাতিমারাসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম রয়েছে। এছাড়া পাশের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রামসহ মোট ৩০টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন এই নদী পার হতে হয়। এসব চরাঞ্চলে ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের প্রধান উৎপাদিত ফসল হলো ধান, পাট, ভুট্টা, বাদাম ও বিভিন্ন রবি শস্য। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পণ্য রাজিবপুর ও রৌমারীর বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য নদী পার করে নিতে হয়। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়ায় কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মায়েরা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও চরাঞ্চলের এই জনপদে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না। গত সরকারের আমলে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “খাজার ঘাটে একটি সেতু আমাদের প্রাণের দাবি। একটি সেতুর অভাবে আমাদের এলাকার মানুষ সুচিকিৎসা ও উন্নত জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা জানান, খাজার ঘাটে সোনাভরি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।