নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বাংলাদেশ যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। এই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাঁশভাগ পূর্বপাড়া গ্রামে পূর্ববিরোধের জের ধরে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুতই হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়, যার ফলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় মো. আনসার ব্যাপারী বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নলডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে হজরত আলী সরদার, খাদিজা বেগম, মরিয়ম খাতুনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পিপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. লিটন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরোব আলীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ.এইচ.আই. তালুকদার ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান আনিস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বহিষ্কৃত নেতাদের ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সকল নেতাকর্মীদেরও বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানিয়েছেন, “মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
রিপোর্টারের নাম 





















