ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

কলেজের জায়গায় অবৈধ দোকান নির্মাণ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদ আলী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

কলেজের প্রধান ফটকের কাছে, সরকারি রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি অব্যবহৃত সরকারি জমিতে কলেজ ভবনের দেয়াল সংলগ্ন করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অধ্যক্ষের। তিনি জানান, এর আগেও গত অক্টোবরে একই স্থানে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদ আলী বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এই নির্মাণকাজ কলেজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।” তিনি আরো উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নির্মাণাধীন দোকানের ভেতরে কলেজের রসায়ন ল্যাবরেটরি এবং উপাধ্যক্ষের কক্ষের জানালা চলে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হবে, যা শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠন এবং শিক্ষা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নির্মাণাধীন দোকানের অংশে বৈদ্যুতিক মিটার সংযুক্ত রয়েছে এবং নিচে সেপটিক ট্যাংক অবস্থিত। দোকান নির্মাণের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমদাদ হোসেন পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন, যদিও তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন।

অভিযোগের বিষয়ে এমদাদ হোসেন পাল্টা দাবি করেছেন যে, জায়গাটি তাদের এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে না। তবে ইউএনও যদি নিষেধ করতেন, তবে আমরা দোকান করতাম না। এখন যদি প্রশাসন বলে, তবে আমরা সরিয়ে নেব।”

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমিন আজিজ বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। পূর্বেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। জমির বৈধ কাগজপত্র থাকলে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাপজোখে সহযোগিতা করেননি। সরকারি ছুটির দিনে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগও আমরা পেয়েছি।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

কলেজের জায়গায় অবৈধ দোকান নির্মাণ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তোলপাড়

আপডেট সময় : ১১:২০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদ আলী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

কলেজের প্রধান ফটকের কাছে, সরকারি রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি অব্যবহৃত সরকারি জমিতে কলেজ ভবনের দেয়াল সংলগ্ন করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অধ্যক্ষের। তিনি জানান, এর আগেও গত অক্টোবরে একই স্থানে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদ আলী বলেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এই নির্মাণকাজ কলেজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।” তিনি আরো উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, নির্মাণাধীন দোকানের ভেতরে কলেজের রসায়ন ল্যাবরেটরি এবং উপাধ্যক্ষের কক্ষের জানালা চলে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল ব্যাহত হবে, যা শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠন এবং শিক্ষা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নির্মাণাধীন দোকানের অংশে বৈদ্যুতিক মিটার সংযুক্ত রয়েছে এবং নিচে সেপটিক ট্যাংক অবস্থিত। দোকান নির্মাণের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমদাদ হোসেন পবা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ নওহাটা পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন, যদিও তিনি নির্বাচনে পরাজিত হন।

অভিযোগের বিষয়ে এমদাদ হোসেন পাল্টা দাবি করেছেন যে, জায়গাটি তাদের এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারবে না। তবে ইউএনও যদি নিষেধ করতেন, তবে আমরা দোকান করতাম না। এখন যদি প্রশাসন বলে, তবে আমরা সরিয়ে নেব।”

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমিন আজিজ বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। পূর্বেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। জমির বৈধ কাগজপত্র থাকলে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাপজোখে সহযোগিতা করেননি। সরকারি ছুটির দিনে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগও আমরা পেয়েছি।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।