ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় ৩ নিহত: মাদকবিরোধী অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ক্যারিবীয় সাগরে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে একটি নৌযানে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সোমবার এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান বলে দাবি করছে, তবে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো মাদক পাচারে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের ভাষ্যমতে, লক্ষ্যবস্তু নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক-পাচারের রুট ব্যবহার করছিল এবং পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে তথাকথিত চোরাচালান নৌযানগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ এই হামলাসহ এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫০ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করছে, তারা লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের যুক্তি হলো, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিলেন—এমন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল নৌযানে হামলা নয়, তেলের ট্যাংকার জব্দ এবং এমনকি ভেনেজুয়েলার বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি সরকারের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় ৩ নিহত: মাদকবিরোধী অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্যারিবীয় সাগরে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে একটি নৌযানে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সোমবার এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই হামলাকে লাতিন আমেরিকার ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান বলে দাবি করছে, তবে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো মাদক পাচারে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের ভাষ্যমতে, লক্ষ্যবস্তু নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিচিত মাদক-পাচারের রুট ব্যবহার করছিল এবং পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে তথাকথিত চোরাচালান নৌযানগুলো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ এই হামলাসহ এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫০ জনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করছে, তারা লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের যুক্তি হলো, লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিলেন—এমন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কেবল নৌযানে হামলা নয়, তেলের ট্যাংকার জব্দ এবং এমনকি ভেনেজুয়েলার বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ধরতে রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।