ভারতের রাজস্থান রাজ্যের টঙ্ক সোয়াই মাধোপুর এলাকায় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে ওই নেতা মুসলিম পরিচয় জানার পর কয়েকজন নারীকে কম্বল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রাক্তন সংসদ সদস্য সুখবীর সিং জনপুরিয়া কম্বল বিতরণের সময় এক নারীর নাম জিজ্ঞাসা করেন। নারীটি নিজের মুসলিম পরিচয় দিলে, জনপুরিয়া তাকে কম্বল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “যারা প্রধানমন্ত্রীকে (মোদি) গালি দেয়, তাদের কম্বল নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। আপনাদের খারাপ লাগলে আমার কিছু করার নেই।” ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, কিছু নারী জনপুরিয়ার এই আচরণের প্রতিবাদ করছেন। তারা বলছেন, নারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শেষ মুহূর্তে খালি হাতে ফিরে গেছেন। প্রতিবাদে জনপুরিয়া তর্কে না জড়িয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে তিনি দাবি করেন, কম্বলগুলো তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিতরণ করছিলেন এবং এতে কোনো সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হয়নি।
এই ঘটনার পর টঙ্ক-সওয়াই মাধোপুরের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং কংগ্রেস নেতা হরিশ চন্দ্র মীনা ভিডিওটি শেয়ার করে জনপুরিয়ার আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এই ধরনের মানসিকতা দেশের সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করে দেবে।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি প্রাক্তন সংসদ সদস্যকে বলেছিলেন, যারা তাকে বা তার দলকে ভোট দেয়নি, তাদের সাহায্য না করতে? যদি তাই হয়, তবে সরকার কেন সংখ্যালঘুদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালাচ্ছে?” এই ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















