দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাসের গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই যাত্রীকে পিটিয়ে আটকে রাখার অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে আঞ্চলিক মহাসড়ক। বাস শ্রমিকদের হাতে যাত্রী নিগৃহীত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ আট কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং অভিযুক্তদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোববার দুপুরে দিনাজপুর থেকে একটি মেইল বাসে করে ফুলবাড়ীর লক্ষিপুর বাজারে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হন খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহসীন আলী (২৮) ও সুলতান আলী (২৫)। বাসে ওঠার সময় লক্ষিপুর বাজারে নামিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও চালকের সহকারী সেখানে বাস না থামিয়ে সরাসরি পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে বাসের কর্মীদের সাথে ওই দুই যাত্রীর বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বাসটি লক্ষিপুরে না থামিয়ে বিরামপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই দুই যুবককে বেঁধে লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বাস শ্রমিকরা। এমনকি তাদেরকে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে বিরামপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এই খবর লক্ষিপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। দুপুর ১টার দিকে তারা লাঠিসোটা নিয়ে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষিপুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। দীর্ঘ চার ঘণ্টার এই অবরোধে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে স্থবির হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা।
খবর পেয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাছান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) এবং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। দফায় দফায় আলোচনার পর প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিরামপুর থানা থেকে ওই দুই যুবককে ছাড়িয়ে আনলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
ভুক্তভোগী মহসীন ও সুলতান জানান, নির্দিষ্ট গন্তব্যের ভাড়া পরিশোধ করার পরও তাদের নামিয়ে না দিয়ে উল্টো ১০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রী, বাস মালিক-শ্রমিক পক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুতই একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 




















