চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর পদের মেয়াদ থাকলেও তিনি দ্রুত নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। তবে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে এবং দল তাঁকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর হালিশহরে একটি পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২১ সালের চসিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মেয়র শাহাদাত বলেন, সেই নির্বাচন ছিল অনিয়ম ও আতঙ্কে ঘেরা। ইভিএমে ভোট গ্রহণ হলেও তাঁকে কোনো মুদ্রিত ফলাফল দেওয়া হয়নি, বরং হাতে লেখা একটি ফলাফল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনের সময় তাঁর এজেন্টদের মারধর, গ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এমনকি তাঁকে হাসপাতাল থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নির্বাচনি কারচুপির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন, “আমি একজন ঘোর গণতান্ত্রিক মানুষ। দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই পর্যায়ে এসেছি। আদালতের রায়ে যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।”
বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি এখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে রেজাউল করিম ও তৎকালীন নির্বাচন কমিশনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ডা. শাহাদাতকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ২০২৪ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত রোববার (১ ডিসেম্বর) ২০২১ সালের সেই বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে পাঁচ বছর সময়কাল পূর্ণ হয়েছে। তবে আইনি মারপ্যাঁচে ডা. শাহাদাতের প্রকৃত মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















