ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ: সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। সংসদের সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার অনুযায়ী এবার বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৩৫টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ভাগে ১৩টি আসন পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেতে পারে ১১টি আসন। এই আসনগুলোতে কারা সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

দলীয় সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী ফোরামে সক্রিয় আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা এবং সংগঠনের প্রতি আনুগত্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করা এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের ত্যাগ ও অবদানকে মনোনয়নের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

আলোচনায় থাকা অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন— সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার এবং আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা জানান, সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী নারীরা দলের শীর্ষ পদে (আমির) আসীন হতে না পারলেও সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের কোনো বাধা নেই। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য, দক্ষ এবং ত্যাগী নেত্রীদেরই দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত তাদের সংসদীয় দলে পেশাজীবী ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা: ইসরাইলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে লেবাননের নালিশ

ত্রয়োদশ সংসদ: সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যারা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। সংসদের সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার অনুযায়ী এবার বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৩৫টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ভাগে ১৩টি আসন পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেতে পারে ১১টি আসন। এই আসনগুলোতে কারা সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

দলীয় সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী ফোরামে সক্রিয় আলোচনায় রয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা এবং সংগঠনের প্রতি আনুগত্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করা এবং সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবে প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের ত্যাগ ও অবদানকে মনোনয়নের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জামায়াতের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন— কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

আলোচনায় থাকা অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন— সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার এবং আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা জানান, সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী নারীরা দলের শীর্ষ পদে (আমির) আসীন হতে না পারলেও সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের কোনো বাধা নেই। তাই সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য, দক্ষ এবং ত্যাগী নেত্রীদেরই দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত তাদের সংসদীয় দলে পেশাজীবী ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।