ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিএনজি চালকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ভোগান্তিতে যাত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

হঠাৎ করেই সিএনজি চালকদের চাঁদার পরিমাণ আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ১০ টাকা থেকে এক লাফে ৭০ টাকায় চাঁদা বৃদ্ধি এবং মাসিক ১ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে শত শত সিএনজি চালক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এর ফলে রোববার সকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইভা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, পূর্বে এই রুটে সিএনজি চালানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো চাঁদা ছিল না। পরবর্তীতে তা ১০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের পর শ্রমিক নেতা দুকোলের নেতৃত্বে রফিক ও মোদন চাঁদার পরিমাণ ৭০ টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্ত চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, “আগে ১০, পরে ২০, তারপর ৪০ টাকা দিয়েছি। এখন বলছে ৭০ টাকা আর মাসে ১ হাজার টাকা দিতে হবে। না দিলে গাড়ি স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেয় না, চলাচল বন্ধ করে দেয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “চাঁদা না দিলে মারধরও করা হচ্ছে। আমরা কি এই জন্য ভোট দিয়েছি? বলা হয়েছিল দেশে চাঁদাবাজি থাকবে না। কিন্তু এমপিদের শপথের পর থেকেই চাঁদা বেড়েই চলেছে।”

অন্য একজন চালক মো. স্বপন মিয়া অভিযোগ করেন, “ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে স্থানীয় দুকূল নামের এক ব্যক্তি বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তোলে। আমরা দিন এনে দিন খাই-এই বাড়তি টাকা কোথা থেকে দেব?” চালকদের ভাষ্যমতে, ‘জিপি’ নামে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, এমনকি শারীরিকভাবেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। অতিরিক্ত চাঁদার কারণে তাদের দৈনিক আয়-রোজগার থেকে বড় একটি অংশ কেটে যাচ্ছে, যা দিয়ে জ্বালানি খরচ, গাড়ির কিস্তি এবং সংসার চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধ, মাসিক ১ হাজার টাকার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পূর্বের সব ধরনের চাঁদা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, ত্রিশালের সিএনজি চালকরা গাড়ি নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে ঢুকলে শ্রমিক নেতা দূকোল, রফিক ও মোদন চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এতে ত্রিশালের সিএনজি চালকরা সড়ক অবরোধ করে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ‘শুভ উদ্বোধন’ ব্যানার, পুড়িয়ে দিল স্বেচ্ছাসেবক দল

সিএনজি চালকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ভোগান্তিতে যাত্রী

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হঠাৎ করেই সিএনজি চালকদের চাঁদার পরিমাণ আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ১০ টাকা থেকে এক লাফে ৭০ টাকায় চাঁদা বৃদ্ধি এবং মাসিক ১ হাজার টাকা বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে শত শত সিএনজি চালক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এর ফলে রোববার সকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইভা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, পূর্বে এই রুটে সিএনজি চালানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো চাঁদা ছিল না। পরবর্তীতে তা ১০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের পর শ্রমিক নেতা দুকোলের নেতৃত্বে রফিক ও মোদন চাঁদার পরিমাণ ৭০ টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্ত চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, “আগে ১০, পরে ২০, তারপর ৪০ টাকা দিয়েছি। এখন বলছে ৭০ টাকা আর মাসে ১ হাজার টাকা দিতে হবে। না দিলে গাড়ি স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেয় না, চলাচল বন্ধ করে দেয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “চাঁদা না দিলে মারধরও করা হচ্ছে। আমরা কি এই জন্য ভোট দিয়েছি? বলা হয়েছিল দেশে চাঁদাবাজি থাকবে না। কিন্তু এমপিদের শপথের পর থেকেই চাঁদা বেড়েই চলেছে।”

অন্য একজন চালক মো. স্বপন মিয়া অভিযোগ করেন, “ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে স্থানীয় দুকূল নামের এক ব্যক্তি বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তোলে। আমরা দিন এনে দিন খাই-এই বাড়তি টাকা কোথা থেকে দেব?” চালকদের ভাষ্যমতে, ‘জিপি’ নামে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, এমনকি শারীরিকভাবেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। অতিরিক্ত চাঁদার কারণে তাদের দৈনিক আয়-রোজগার থেকে বড় একটি অংশ কেটে যাচ্ছে, যা দিয়ে জ্বালানি খরচ, গাড়ির কিস্তি এবং সংসার চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধ, মাসিক ১ হাজার টাকার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পূর্বের সব ধরনের চাঁদা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, ত্রিশালের সিএনজি চালকরা গাড়ি নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে ঢুকলে শ্রমিক নেতা দূকোল, রফিক ও মোদন চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এতে ত্রিশালের সিএনজি চালকরা সড়ক অবরোধ করে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।