হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ এবং ‘আজাদী’ শব্দগুলোকে জাতীয় ভাষা-সম্পদের অংশ হিসেবে জনপরিসরে ব্যাপকভাবে চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কিছু চিহ্নিত গোষ্ঠী যারা মূলত পরাজিত এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সমর্থক, তারা সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক আরবি-ফারসি শব্দগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। এদেরকে তিনি মহান জুলাই বিপ্লবের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও উল্লেখ করেন যে, ইসলাম বিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষ ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে ‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ এবং ‘আজাদী’ শব্দগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এগুলো কেবল শব্দ নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভাষা-ঐতিহ্য। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রীকেও এই গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা ঔপনিবেশিক মানসিকতায় আচ্ছন্ন, তাদের পক্ষে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব নয়। যারা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক স্লোগানগুলোকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমে সোচ্চার হতে হবে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বাংলা ভাষা ইংরেজি শব্দের মতোই অসংখ্য আরবি, ফারসি এবং উর্দু শব্দের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে উল্লিখিত শব্দগুলো ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এ অঞ্চলের গণমানুষের সংগ্রামকে রাজনৈতিক ভাষা এবং অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পেয়েছি। কিন্তু ঔপনিবেশিক মানসিকতার কিছু বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী বাংলা ভাষার এই নতুন প্রাণশক্তিকে ধ্বংস করতে তৎপর হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, তারা কখনো ‘শহীদ মিনার’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দের পরিবর্তন চায়নি, কিন্তু যেসব আরবি-ফারসি শব্দভিত্তিক স্লোগান তাদের উগ্র ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্য হুমকি মনে করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তারা আজ মুখোশ খুলে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। এই পরাজিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনবাদীরা যতবারই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, ততবারই ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, যারা কথিত প্রগতি ও শিল্পের নামে ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদ-লালিত গণবিরোধী বয়ানকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা বয়ান ও অবস্থান জারি রাখতে হবে। এই লড়াইয়ে যারা গণমাধ্যম ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে কাজ করছেন, তাদের দক্ষতা, কর্মপরিকল্পনা এবং পেশাগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সামান্য অর্জনে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজেদের দুর্বলতাগুলোও কাটিয়ে উঠতে হবে। শহীদ ওসমান বিন হাদির চেতনা ও লক্ষ্যকে বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























