মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলে উল্লাস, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বাধার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও গাইবান্ধায় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ আটজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার মহান একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগের তৎপরতার খবর পাওয়া যায়। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মানিকগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে উৎসব পালন করেন নেতাকর্মীরা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ফরিদপুরের নগরকান্দায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে, যদিও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সটকে পড়ে।
রাজশাহীতে পরিত্যক্ত জেলা কার্যালয়ে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একদল কর্মী। মাদারীপুরের শিবচরে একটি কার্যালয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে খোলার কয়েক ঘণ্টা পরেই তা পুনরায় দখল করে নেয় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ময়মনসিংহের নান্দাইলে রাত ১২টা ১ মিনিটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া নেত্রকোনার পূর্বধলা ও জামালপুরের বকশীগঞ্জেও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে গাইবান্ধা ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোড থেকে ঝটিকা মিছিল বের করে শহীদ মিনারের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ছয়জন নেতাকর্মী। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের ইতোমধ্যে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল তাদের অন্যতম বড় ধরনের দৃশ্যমান তৎপরতা। ট্রানজিশনাল পিরিয়ড বা রূপান্তরকালীন এই সময়ে দলটির এমন হঠাৎ সক্রিয় হওয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























