রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই, আর আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা। বিশেষ করে তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাসপাতালের নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স চালক বদলি হওয়ার পর দীর্ঘ ১৫ মাস পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো চালক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতি মায়েদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজেই আসছে না। নিরুপায় হয়ে রোগীদের স্বজনদের গুণতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চড়া ভাড়া। যেখানে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত খরচ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মতো, সেখানে বেসরকারি গাড়িতে ১ হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের চিত্রও সমান উদ্বেগজনক। ২০২১ সাল থেকে হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিকল্প হিসেবে ২০২৩ সালে একটি অ্যানালগ মেশিন স্থাপন করা হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতির। একটি এক্স-রে রিপোর্ট পেতে যেখানে ডিজিটাল মেশিনে মাত্র ২ থেকে ৪ মিনিট সময় লাগে, সেখানে অ্যানালগ মেশিনে সময় লাগছে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। জরুরি দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের ক্ষেত্রে এই বিলম্ব অনেক সময় জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
ভৌগোলিক কারণে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিই তিস্তা নদীবেষ্টিত। নোহালী, আলমবিদিতর ও কোলকোন্দসহ বিভিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষকে অনেক কষ্ট করে নদী পেরিয়ে উপজেলা সদরে আসতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিবহন সুবিধা না পেয়ে তাদের আবারও জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মেহেরুন্নেছা রুমা জানান, অ্যানালগ মেশিনে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়েই অন্যত্র রেফার করতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু আলেমুল বাসার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, “চালক সংকট এবং ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।
রিপোর্টারের নাম 

























