মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অমর লগ্নে ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানি শহিদ আবদুল জব্বারের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়া গ্রাম এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের করুণ সুরে হাতে পুষ্পস্তবক নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হতে থাকেন স্থানীয় শহিদ মিনারে। বীরপ্রসূতা এই জনপদের কৃতি সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড় এক সময় উৎসবে রূপ নেয়।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ২১১টি ভাষা প্রচলিত থাকলেও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে রক্ত দেওয়ার ইতিহাস কেবল বাঙালিরই রয়েছে। ১৯৫২ সালের সেই উত্তাল সময়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যে আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, শহিদ জব্বারের রক্তে তা নতুন গতিবেগ পায়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ গফরগাঁওয়ের এই নিভৃত পল্লী ‘জব্বার নগর’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ আবদুল জব্বারের বাড়ির আঙিনায় স্থাপিত উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনএম আবদুল্লাহ-আল-মামুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন চলতে থাকে। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। ভাষা শহিদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার গুরুত্বকে আরও একবার মূর্ত করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























