পবিত্র রমজান মাসে সন্দ্বীপের একটি মসজিদে তারাবির নামাজরত অবস্থায় ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জিহাদ (২০)। এই ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে জিহাদ জমির মাঝির মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ কয়েকজন যুবক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। ইবাদতরত অবস্থায় থাকা জিহাদকে তারা জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে মসজিদের আঙিনায় বের করে আনে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিতে দিতে লাঠি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাদের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে মুসল্লিরা পিছু হটতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ।
আহত জিহাদের সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দলীয় আদর্শগত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর মুমূর্ষু অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন রয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে মসজিদের মতো একটি পবিত্র স্থানে ঢুকে এমন বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, “ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।”
রিপোর্টারের নাম 

























