ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

সরাইলে শহীদ মিনারে বাধার মুখে রুমিন ফারহানা, ছিঁড়ে ফেলা হলো পুষ্পস্তবক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের চরম বাধার মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার নিয়ে আসা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেললে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যখন পুষ্পস্তবক হাতে বেদীর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তারা রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবকটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি শ্রদ্ধা না জানিয়েই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর যদি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।” তিনি আরও বলেন, যারা দলের পদ ব্যবহার করে এ ধরনের উগ্র আচরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশিষ্ট রত্ন হুরুন নাহার রশীদের জীবনাবসান, শোকস্তব্ধ আমার দেশ পরিবার

সরাইলে শহীদ মিনারে বাধার মুখে রুমিন ফারহানা, ছিঁড়ে ফেলা হলো পুষ্পস্তবক

আপডেট সময় : ০৬:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের চরম বাধার মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার নিয়ে আসা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেললে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের পাহারায় স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যখন পুষ্পস্তবক হাতে বেদীর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তারা রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবকটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি শ্রদ্ধা না জানিয়েই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর যদি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।” তিনি আরও বলেন, যারা দলের পদ ব্যবহার করে এ ধরনের উগ্র আচরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।