ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় একটি মাদ্রাসার পেনশনের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে অধ্যক্ষ ও সাবেক এক শিক্ষকের সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সদর বাজার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সংঘটিত এই সহিংসতায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলাইরচর বরকতিয়া আলিম মাদ্রাসার সাবেক সহকারী মৌলভী আব্দুল মান্নান অবসরে যাওয়ার পর তার পেনশনের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। মান্নানের অভিযোগ, অধ্যক্ষের অসহযোগিতার কারণে তার পাওনা টাকা আটকে আছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন, তার ছেলে উসা বিন মোসলেম, সাবেক শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে টুটুল মোল্যাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উত্তেজনা রয়ে যায়। পরবর্তীতে আহত উসা বিন মোসলেম চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে হাসপাতাল গেটে মান্নান মোল্লার সমর্থকরা তার ওপর পুনরায় হামলা চালায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় হামলাকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, পার্শ্ববর্তী স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং মমিন স্টোরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুই দফার এই সংঘর্ষে আহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন— অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন (৫৫), উসা বিন মোসলেম (২৬), আব্দুল মান্নান (৭০), টুটুল মোল্যা (৪২), সিফাত (৩০), মিকাইল (২৫), আসিব (২৮), শরাফত (৩০), ফরাদ মোল্লা (৩২) ও মিশকাত (৩০)। গুরুতর আহত দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























