ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় কোনো ধরনের পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার এক সামরিক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বৈঠক চলছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, গাজা উপত্যকাকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা একমত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাসের হাতে অস্ত্র থাকা অবস্থায় সেখানে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়।
একই দিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে গাজায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে গাজায় দুই বছর মেয়াদী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে বিশ্বের প্রায় দুই ডজন দেশের শীর্ষ নেতা ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হামাসের ভবিষ্যৎ। ইসরাইলের প্রধান দাবি হলো হামাসকে পুরোপুরি অস্ত্রহীন করা, যা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছে তেল আবিব।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং এ বিষয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। ইসরাইল ইতোমধ্যে হামাসের সদস্যদের কাছ থেকে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত জব্দ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নবগঠিত ‘ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটি’ এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
উল্লেখ্য, শান্তি পর্ষদের অধীনে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি ‘জাতীয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান আলী শাআত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে উপস্থিত থেকে গাজার প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তবে নেতানিয়াহুর এই নতুন শর্ত গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্লেষণ চলছে।
রিপোর্টারের নাম 























