ফিলিপাইনের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে চতুর্থ দফা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর। বুধবার তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই অভিযোগপত্র জমা পড়ে। এএফপি’র হাতে আসা নথি অনুযায়ী, দুতের্তের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং অনুল্লিখিত সম্পদের ‘উদ্বেগজনক’ ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত বছর প্রতিনিধি পরিষদ সারা দুতের্তেকে অভিশংসিত করেছিল। তবে, প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালত সেই মামলা বাতিল করে দেয়। ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হলে বিষয়টি সিনেটে বিচারের জন্য উঠবে। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে, তিনি রাজনীতিতে অযোগ্য ঘোষিত হবেন এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে।
অভিযোগের অন্যতম সমর্থক, লা ইউনিয়ন প্রদেশের প্রতিনিধি পাওলো ওর্তেগা, বিষয়টিকে ‘সাংবিধানিক জবাবদিহিতার’ আওতায় এনেছেন। তিনি বলেন, “যেকোনো অনুল্লিখিত সম্পদ বা অজানা উৎসের সম্পদ একটি গুরুতর বিষয়।”
চলতি বছরে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিশংসন মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলোর মূল অভিযোগ ছিল দুর্নীতি ও অনিয়ম। গত ৯ ফেব্রুয়ারি দায়ের হওয়া একটি অভিযোগে বলা হয়েছিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন তিনি প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার করদাতাদের অর্থ তছরুপ করেছেন। অভিযোগের সমর্থক প্রতিনিধি লেইলা দে লিমা এটিকে পূর্বের খারিজ হওয়া অভিযোগের একটি ‘উন্নত সংস্করণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে সারা দুতের্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের পরপরই এই দুই সাবেক মিত্রের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ শুরু হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে দুতের্তে তার রাজনৈতিক মিত্রদের একত্রিত করতে এবং তার গোষ্ঠীর পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা সুসংহত করতে চেয়েছেন। এই নতুন অভিশংসন অভিযোগ তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























