বাগেরহাটের মোংলায় সাংবাদিকের বাড়িতে সংঘটিত দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লুণ্ঠিত মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—রেজাউল শিকদার, মো. তানজিল ও মো. নুর আলম। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণের একাংশ এবং একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামে স্থানীয় সাংবাদিক খাঁন আশিকুজ্জামানের টিনশেড বসতঘরে হানা দেয় একদল সশস্ত্র ডাকাত। ডাকাত সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে সাংবাদিক ও তার স্ত্রীকে অচেতন করে ফেলে। এরপর তারা ঘর থেকে নগদ টাকা, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার, একটি স্মার্টফোন ও পেশাগত কাজে ব্যবহৃত মাইক বুম লুট করে নিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীরা অচেতন অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনায় থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতি করার কথা স্বীকার করেছে।
মোংলা-রামপাল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত মালামাল প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সাংবাদিকের বাড়িতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিপোর্টারের নাম 






















