সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে একই রাতে চারটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই চুরির ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন ট্রান্সফরমার সংযোজনে লাখ লাখ টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দোবিলা গ্রামের মো. আবু ইউসুফ মাস্টারের জমির আইলের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে থাকা তিনটি ট্রান্সফরমার এবং পাশের জমির মাঠ থেকে মো. আব্দুল মজিদের জমির আইলের খুঁটি থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এই ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দিশেহারা। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে ট্রান্সফরমার বেঁধে রাখার মতো অসম সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রাহকদেরই পরিশোধ করতে হয়, যা দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য একটি বিরাট আর্থিক বোঝা। এই পরিস্থিতিতে, গ্রাহকরা যেকোনো মূল্যে চোর চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আবু ইউসুফ মাস্টার জানান, “বর্তমানে ইরি-বোরো ধান রোপণের জন্য মাঠে পানি দেওয়ার সময়। কিন্তু ট্রান্সফরমার না থাকায় আমরা চরম বিপদে পড়েছি। ট্রান্সফরমার খুঁটির উপরে থাকায় তা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তাড়াশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. অজিজুল হক চুরির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, “চুরির খবর পাওয়ার পরই আমরা গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে বলেছি। চুরি ঠেকাতে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি চুরির ঘটনা একই রকম; চোরেরা ট্রান্সফরমারের মূল্যবান তামার তার নিয়ে ধাতব গোল বাক্স ও তেল ফেলে চলে যায়। ভাঙারির দোকানগুলোতে নজরদারি বাড়াতে পারলে এই চোর চক্রকে ধরা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসাধারণের সচেতনতাই পারে এই ট্রান্সফরমার চুরি রোধ করতে।
রিপোর্টারের নাম 






















