ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ধানের শীষে ভোট, স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানদের দায়িত্ব নিল বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কারণে এক গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী এবং তার তিন সন্তানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ঘটনাটি গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ওই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ফাতেমা আক্তার নামের ওই গৃহবধূকে তার স্বামী মো. ইদ্রিস স্থানীয় কেশারপাড় ভোটকেন্দ্রে পাঠান। তবে, স্বামীর পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) মার্কায় ভোট না দিয়ে ফাতেমা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন।

ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পর স্বামী ইদ্রিস তার স্ত্রীর কাছে জানতে চান যে তিনি পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিনা। স্ত্রী সত্য প্রকাশ করলে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে, নির্বাচনের ফলাফল যখন প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় যে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

নির্বাচনের তিনদিন পর, গত রবিবার, ফাতেমা আক্তার যখন অসুস্থ মেয়ের জন্য স্বামীর কাছে চিকিৎসার খরচ চান, তখন ইদ্রিস আবারও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন যে, “তুই যাকে ভোট দিয়েছিস ওই বাপদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করা।” এরপর তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে ফাতেমা আক্তারকে তিন তালাক দেন। বর্তমানে ফাতেমা আক্তার তার বাবার বাড়ি কেশারপাড় গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নড়েচড়ে বসেন। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের নির্দেশনায়, সেনবাগ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শহিদ উল্যার নেতৃত্বে একদল স্থানীয় বিএনপি নেতা সোমবার রাতে ফাতেমা আক্তারের বাড়িতে যান। তারা তার খোঁজখবর নেন এবং তাকে এক বস্তা চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ফাতেমা আক্তার তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, অভিযুক্ত মো. ইদ্রিসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইদ্রিসের বাবা মো. রফিক দাবি করেছেন যে, ভোট নিয়ে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। তার মতে, তৃতীয় বিয়ে ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে সাংসারিক ঝগড়ার জেরেই এই তালাকের ঘটনা ঘটেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

ধানের শীষে ভোট, স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানদের দায়িত্ব নিল বিএনপি

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কারণে এক গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী এবং তার তিন সন্তানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ঘটনাটি গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ওই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ফাতেমা আক্তার নামের ওই গৃহবধূকে তার স্বামী মো. ইদ্রিস স্থানীয় কেশারপাড় ভোটকেন্দ্রে পাঠান। তবে, স্বামীর পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) মার্কায় ভোট না দিয়ে ফাতেমা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেন।

ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পর স্বামী ইদ্রিস তার স্ত্রীর কাছে জানতে চান যে তিনি পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন কিনা। স্ত্রী সত্য প্রকাশ করলে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে, নির্বাচনের ফলাফল যখন প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় যে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

নির্বাচনের তিনদিন পর, গত রবিবার, ফাতেমা আক্তার যখন অসুস্থ মেয়ের জন্য স্বামীর কাছে চিকিৎসার খরচ চান, তখন ইদ্রিস আবারও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন যে, “তুই যাকে ভোট দিয়েছিস ওই বাপদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করা।” এরপর তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে ফাতেমা আক্তারকে তিন তালাক দেন। বর্তমানে ফাতেমা আক্তার তার বাবার বাড়ি কেশারপাড় গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ নড়েচড়ে বসেন। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের নির্দেশনায়, সেনবাগ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শহিদ উল্যার নেতৃত্বে একদল স্থানীয় বিএনপি নেতা সোমবার রাতে ফাতেমা আক্তারের বাড়িতে যান। তারা তার খোঁজখবর নেন এবং তাকে এক বস্তা চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ফাতেমা আক্তার তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, অভিযুক্ত মো. ইদ্রিসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইদ্রিসের বাবা মো. রফিক দাবি করেছেন যে, ভোট নিয়ে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। তার মতে, তৃতীয় বিয়ে ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে সাংসারিক ঝগড়ার জেরেই এই তালাকের ঘটনা ঘটেছে।