ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

রমজানের শুরুতেই নওগাঁর বাজারে উত্তাপ: ঊর্ধ্বমুখী মুরগি ও সবজির দাম, বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নওগাঁর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইফতার ও সেহরির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে মুরগি, বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবুর মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সরেজমিন নওগাঁর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে আমিষের প্রধান উৎস মুরগির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ৩০-৪০ টাকা কম ছিল। একইভাবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় ঠেকেছে। বিক্রেতাদের দাবি, খামার পর্যায়ে সরবরাহ কম এবং রমজান উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে।

সবজির বাজারেও একই চিত্র। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেগুনের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। লেবুর হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলার দাম বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারের প্রধান ফল খেজুরের দামও সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলছে; মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে স্বস্তির খবর হলো—ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, রমজান এলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবকেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে না পেরে অনেককেই বাজারের ফর্দ কাটছাঁট করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের দাবি, নতুন সরকার যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, অন্যথায় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রমজানের শুরুতে ভোক্তাদের মধ্যে একসঙ্গে অনেক বেশি পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। এই অতিরিক্ত চাহিদাই মূলত দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত মুনাফা লোটে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

রমজানের শুরুতেই নওগাঁর বাজারে উত্তাপ: ঊর্ধ্বমুখী মুরগি ও সবজির দাম, বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই নওগাঁর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইফতার ও সেহরির প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে মুরগি, বেগুন, কাঁচামরিচ ও লেবুর মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সরেজমিন নওগাঁর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে আমিষের প্রধান উৎস মুরগির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ৩০-৪০ টাকা কম ছিল। একইভাবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় ঠেকেছে। বিক্রেতাদের দাবি, খামার পর্যায়ে সরবরাহ কম এবং রমজান উপলক্ষে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে।

সবজির বাজারেও একই চিত্র। ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ বেগুনের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। লেবুর হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং করলার দাম বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারের প্রধান ফল খেজুরের দামও সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলছে; মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে স্বস্তির খবর হলো—ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের দাম এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, রমজান এলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবকেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য মেলাতে না পেরে অনেককেই বাজারের ফর্দ কাটছাঁট করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের দাবি, নতুন সরকার যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়, অন্যথায় পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রমজানের শুরুতে ভোক্তাদের মধ্যে একসঙ্গে অনেক বেশি পণ্য কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। এই অতিরিক্ত চাহিদাই মূলত দাম বাড়ার অন্যতম কারণ। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নওগাঁর জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত মুনাফা লোটে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।