পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই কুমিল্লায় লেবুর দামে যেন আগুন লেগেছে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির এই চিত্র নগরীর বিভিন্ন বাজারেই দেখা গেছে। তবে, গণমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেলেই ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, যা ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বুধবার দুপুরে কুমিল্লার রাজগঞ্জ বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়। “আমার দেশ” পত্রিকার প্রতিবেদককে দেখে এক লেবু বিক্রেতা, মো. শহিদ মিয়া, তার বিক্রি করা ১৪০ টাকা হালির লেবু ১২০ টাকায় নামিয়ে আনেন। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তার সমস্ত লেবু বিক্রি হয়ে যায়।
দিনের বিভিন্ন সময়ে নগরীর রাজগঞ্জ, রানীর বাজার, টমছম ব্রিজ বাজার, বাদশা মিয়া বাজার এবং চকবাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শরবত তৈরির জন্য ব্যবহৃত লেবুর দাম আকাশচুম্বী। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি পিস লেবুর দাম বেড়েছে ৬ থেকে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি পিস লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে মাঝারি আকারের এক হালি লেবুর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
রাজগঞ্জ বাজারের লেবু ব্যবসায়ী শহিদ মিয়া জানান, বর্তমানে লেবুর মৌসুম না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। গাছে নতুন ফুল ও ছোট আকারের লেবু থাকায় দাম বেড়েছে। লেবুর উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের সাথে প্রায়শই তাদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। রাজগঞ্জ বাজারে লেবু কিনতে আসা কলেজ শিক্ষক রহিম মির্জা বলেন, “৫০ গজ দূরত্বের মধ্যেই লেবুর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি। আমার মনে হয়, রমজান উপলক্ষে সকল ব্যবসায়ীদের সংযত হওয়া উচিত। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। বাজার মনিটরিং কমিটির তদারকিও চোখে পড়ে না।”
কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মনির বলেন, “সব সরকারের আমলেই রমজান মাস এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের, বিশেষ করে লেবু, খেজুর, ছোলার দাম বৃদ্ধি পায়। রোজায় প্রায় সব বাড়িতেই লেবুর শরবত পান করা হয়, তাই এই বাড়তি দামে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি লেবুর দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া জানান, সম্প্রতি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় বৃদ্ধি পেলেও জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে ৮০০ টাকার বেশি মূল্য নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে লেবু এবং বেগুনের দাম কিছুটা বেশি। লেবুর উৎপাদন কম থাকায় ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলছেন। তারপরও আমরা ব্যবসায়ীদের বেশি মুনাফা না করার নির্দেশনা দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, বুধবার বাদশা মিয়া বাজারে মূল্য তালিকা না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার ক্যাব, ভোক্তা অধিকার এবং সকল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সকল ব্যবসায়ীকে রমজান উপলক্ষে বাড়তি দাম না নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















