ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার খাউড়া মেলায় উৎসবের ঢল, ৩০ কেজির বাঘাইড় বিক্রি ৬০ হাজার টাকায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খাউড়া মেলায় এবারও বসেছিল উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের কাছে ‘ছোট সন্ন্যাসী মেলা’ নামে পরিচিত ৩০০ বছরের পুরনো এই আয়োজনে জামাই-মেয়েরা মেতে ওঠেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল হরেক প্রজাতির বিশাল আকারের মাছ। এর মধ্যে ৩০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৬০ হাজার টাকায়, যা মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।

এবছর ভোটের কারণে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত না হলেও, তার এক সপ্তাহ পর গাবতলীর বাগবাড়ির অদূরে খাউরা জানের উপর বসে এই মেলা, যা স্থানীয়দের কাছে এক ভিন্ন রকম উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। পুরো এলাকা যেন এক ভিন্ন রকম ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে। বিশেষ করে জামাইদের উপস্থিতি মেলার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে। পার্শ্ববর্তী প্রায় ২০টি গ্রাম আত্মীয়-স্বজনের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শাজাহানপুরের খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা খাউড়া দহ এলাকায় তিন শতাধিক দোকান নিয়ে এই মেলা বসে।

পোড়াদহ মেলার মতোই খাউড়া মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই, বিগ হেড, ব্লাড কার্পের মতো মাছ কিনতে অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করেন এই দিনটির জন্য। এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ৩০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ, যা বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকায়। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ২২ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম চাওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। গাবতলীর মহিষাবান এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শুভ্র জানান, তিনি বিভিন্ন ওজনের ছয়টি বাঘাইড় মাছ নিয়ে এসেছেন এবং প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, বড় মাছগুলোর দাম আরও বেশি।

তবে এবারের মেলায় মাছের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। আকার ও ওজন ভেদে কাতলা মাছ ৬০০-৯০০ টাকা, বিগ হেড ৩৫০-৪৫০ টাকা, রুই ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ৩০০-৪০০ টাকা, ব্লাড কার্প ৪০০-৬০০ টাকা, কার্পু ৩৫০-৪৫০ টাকা, সিলভার ২৫০-৩৭০ টাকা, বোয়াল ৬০০-৯০০ টাকা এবং আইড় ১২০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বগুড়া শহর থেকে আসা শামীম হাসান রুদ্র, যিনি ড্রোন দিয়ে মেলার ছবি তুলছিলেন, জানান যে পোড়াদহ মেলা না হওয়ায় তিনি এখানে মাছ কিনতে এসেছেন। তিনি ৬০০ টাকা কেজি দরে কাতল কিনেছেন এবং দাম কিছুটা বেশি বলে মন্তব্য করেন। মাদলা এলাকার আজিজার রহমান জামাইকে সঙ্গে নিয়ে ১২ হাজার টাকায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ কেনেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর মেলা উপলক্ষে বাড়িতে মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন আসেন। নারিল্যার আব্দুর রউফের মতে, এই দিনটি তাদের কাছে ঈদের মতোই আনন্দের। গাবতলী উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, গতবারের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও বিক্রি ভালোই হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাছ আনতে পারেননি।

মাছের পাশাপাশি মেলায় ছিল হরেক রকমের মিষ্টি, খেলনা, চুড়ি-ফিতা, সংসারের ব্যবহার্য লোহার সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, হলুদ, পান খাওয়ার চুনসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য। ১০ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় ছিল দেখার মতো, যার প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০০ টাকা।

রশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার জানান, এবার মেলায় কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। এটি স্থানীয়ভাবে একটি বড় উৎসব এবং এলাকার মানুষের মাঝে বিশাল উৎসব বিরাজ করছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও খাউড়া মেলা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

বগুড়ার খাউড়া মেলায় উৎসবের ঢল, ৩০ কেজির বাঘাইড় বিক্রি ৬০ হাজার টাকায়

আপডেট সময় : ০৬:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খাউড়া মেলায় এবারও বসেছিল উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের কাছে ‘ছোট সন্ন্যাসী মেলা’ নামে পরিচিত ৩০০ বছরের পুরনো এই আয়োজনে জামাই-মেয়েরা মেতে ওঠেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল হরেক প্রজাতির বিশাল আকারের মাছ। এর মধ্যে ৩০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৬০ হাজার টাকায়, যা মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।

এবছর ভোটের কারণে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত না হলেও, তার এক সপ্তাহ পর গাবতলীর বাগবাড়ির অদূরে খাউরা জানের উপর বসে এই মেলা, যা স্থানীয়দের কাছে এক ভিন্ন রকম উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। পুরো এলাকা যেন এক ভিন্ন রকম ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে। বিশেষ করে জামাইদের উপস্থিতি মেলার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে। পার্শ্ববর্তী প্রায় ২০টি গ্রাম আত্মীয়-স্বজনের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শাজাহানপুরের খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা খাউড়া দহ এলাকায় তিন শতাধিক দোকান নিয়ে এই মেলা বসে।

পোড়াদহ মেলার মতোই খাউড়া মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই, বিগ হেড, ব্লাড কার্পের মতো মাছ কিনতে অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করেন এই দিনটির জন্য। এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ৩০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ, যা বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকায়। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ২২ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম চাওয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। গাবতলীর মহিষাবান এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শুভ্র জানান, তিনি বিভিন্ন ওজনের ছয়টি বাঘাইড় মাছ নিয়ে এসেছেন এবং প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, বড় মাছগুলোর দাম আরও বেশি।

তবে এবারের মেলায় মাছের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা ও ক্রেতারা। আকার ও ওজন ভেদে কাতলা মাছ ৬০০-৯০০ টাকা, বিগ হেড ৩৫০-৪৫০ টাকা, রুই ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ৩০০-৪০০ টাকা, ব্লাড কার্প ৪০০-৬০০ টাকা, কার্পু ৩৫০-৪৫০ টাকা, সিলভার ২৫০-৩৭০ টাকা, বোয়াল ৬০০-৯০০ টাকা এবং আইড় ১২০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বগুড়া শহর থেকে আসা শামীম হাসান রুদ্র, যিনি ড্রোন দিয়ে মেলার ছবি তুলছিলেন, জানান যে পোড়াদহ মেলা না হওয়ায় তিনি এখানে মাছ কিনতে এসেছেন। তিনি ৬০০ টাকা কেজি দরে কাতল কিনেছেন এবং দাম কিছুটা বেশি বলে মন্তব্য করেন। মাদলা এলাকার আজিজার রহমান জামাইকে সঙ্গে নিয়ে ১২ হাজার টাকায় ২০ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ কেনেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর মেলা উপলক্ষে বাড়িতে মেয়ে ও আত্মীয়স্বজন আসেন। নারিল্যার আব্দুর রউফের মতে, এই দিনটি তাদের কাছে ঈদের মতোই আনন্দের। গাবতলী উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, গতবারের তুলনায় মাছের দাম কিছুটা বেশি হলেও বিক্রি ভালোই হচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাছ আনতে পারেননি।

মাছের পাশাপাশি মেলায় ছিল হরেক রকমের মিষ্টি, খেলনা, চুড়ি-ফিতা, সংসারের ব্যবহার্য লোহার সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, হলুদ, পান খাওয়ার চুনসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য। ১০ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় ছিল দেখার মতো, যার প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০০ টাকা।

রশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রোকন তালুকদার জানান, এবার মেলায় কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। এটি স্থানীয়ভাবে একটি বড় উৎসব এবং এলাকার মানুষের মাঝে বিশাল উৎসব বিরাজ করছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও খাউড়া মেলা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।