বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট গত দুই বছরে আমূল বদলে গেছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এক বিশাল গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়, যা দীর্ঘদিনের পুরনো শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচনী মানচিত্রই পাল্টে দিয়েছে। এখন সেই আন্দোলনের কারিগররাই সরাসরি সরকারের অংশ হয়ে উঠেছেন।
তারেক রহমান যখন বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, তখন তিনি একটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর গঠিত ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতা—নুরুল হক নূর এবং জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, তারা কেউই বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত নন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে এই দুই নেতার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য।
আন্দোলনের মাঠ থেকে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এই তরুণ ও লড়াকু নেতাদের নিয়ে আসা তারেক রহমানের একটি বড় রাজনৈতিক বাজি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের সমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে দেশের শাসনব্যবস্থায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংস্কারমুখী ধারার সূচনা করতে চাচ্ছেন। রাজপথের এই ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেতাদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়া বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























