দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন।
এর আগে ২০০৮ সালের নবম এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে সে সময় তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। এবারের বিজয়ের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
১৯৫১ সালে কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রবীণ নেতা। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে, যখন তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সের কিশোর। স্কুল জীবন থেকেই প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সত্তর দশকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে তার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য।
রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য হিসেবে এটিই তার প্রথম জয় হলেও, এর আগে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজপথের লড়াইয়ে তিনি বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী হিন্দু নেতা হিসেবে পরিচিত গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তার পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং তার বেয়াই নিতাই রায় চৌধুরীও এবারের নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, তিনি কখনোই ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করেননি। ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিজে থেকে কখনো দলের কাছে মনোনয়ন চাননি; বরং দলই তাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব অর্পণ করেছে। তার মতে, ক্ষমতার লিপ্সা নয়, বরং একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ হিসেবে মানুষের সেবা করাই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য। আগের দুটি নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোট কারচুপির বিষয়টিকে দায়ী করেন। অবশেষে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























