ঢাকা-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় ছুটে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই বাদ দিচ্ছি) তিনি মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নিজ হাতে নির্বাচনি পোস্টার অপসারণের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার খেদমত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ভোটারদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তার দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার খেদমত করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’ একইসঙ্গে তিনি দেশব্যাপী চলমান জুলুম-অত্যাচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমার কর্মীর গায়ে নয়, পারলে আমার গায়ে হাত দাও। এখনই দেশব্যাপী সব জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।’
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান শনিবার বিকেলে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা সফর করেন এবং সেখানকার মসজিদে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এটি ছিল নির্বাচন পরবর্তী তার প্রথম জনসম্পৃক্ততামূলক সফর। এ সময় তিনি সাধারণ মুসল্লি ও জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নির্বাচনি প্রচারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জনগণের সমস্যাগুলো গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেন।
মতবিনিময়ের আগে তিনি নিজ হাতে তার নির্বাচনি এলাকার কিছু বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ করে সব বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সবাইকে আত্মনিয়োগ করার নির্দেশনা দেন।
ভোটার জনগণ, জামায়াতের নেতাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সবার প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। নানা বাধা-প্রতিবন্ধকতা ও হামলা উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার জন্য তিনি সবার অবদান স্মরণ করেন। এলাকাবাসী তাকে নির্বাচিত করে যে বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। জনগণের এই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তার দল সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর যতটুকু দায়িত্ব দিয়েছে, সর্বোচ্চ দিয়ে তা পালন করব। দেশটা কারও কাছে ইজারা দেব না, কাউকে প্রভু মানব না, কারও দাসত্ব স্বীকার করব না।’
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভালোবাসা দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। ভালোবাসা দিতে চাই। যদি ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের জাতি গড়ার সুযোগ দেওয়া না হয়, তবে আমরা আমাদের মতো করে কাজ করব। আমাদের দেশপ্রেম ও ভালোবাসাকে দুর্বলতা মনে করবেন না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাদের যতটুকু সুযোগ আছে, সবটুকু উজাড় করে দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে চাই।’
এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির ও আসন পরিচালক আব্দুর রহমান মুসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মোহাম্মাদ তসলিম ও কবির হোসেন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, মিরপুর পূর্ব থানা আমির শাহ আলম তুহিন সহ ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























