ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সাফল্যের ৩৬ বছরে শাবিপ্রবি: উদ্ভাবন ও আধুনিকতায় অনন্য এক বিদ্যাপীঠ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফাল্গুনের প্রথম দিনে প্রকৃতি যখন বসন্তের নতুন সাজে সজ্জিত, ঠিক তখনই আনন্দের দ্বিগুণ মাত্রা নিয়ে ৩৬ বছরে পদার্পণ করল দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ৩৫টি বসন্ত পেরিয়ে আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টি তার গৌরবের ৩৬তম বছরে পা রাখল।

১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বিদ্যাপীঠ। শুরুর সেই দিনটিতে মাত্র ৩টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক এবং ২০৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও, তিন দশকের ব্যবধানে আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সাতটি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ এবং দুটি ইনস্টিটিউটে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাঁদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন সাত শতাধিক অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং প্রশাসনিক সহযোগিতায় রয়েছেন ছয় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

দীর্ঘ এই পথচলায় শিক্ষা, গবেষণা এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনে শাবিপ্রবি নিজেকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও প্রতিষ্ঠানটি কুড়িয়েছে অভাবনীয় খ্যাতি। ২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস চ্যালেঞ্জ অ্যাপস’ প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে শুরু করে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড পুরস্কার-১৭’ এবং ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড-২০’ অর্জনের মতো অসংখ্য সাফল্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঝুলিতে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে শাবিপ্রবির অবদান দেশের জন্য মাইলফলক। দেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ তৈরি, চালকবিহীন ড্রোন আবিষ্কার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’, কথা বলা রোবট ‘রিবো’ ও হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’ এবং ক্যানসার শনাক্তের সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবনের মতো বৈপ্লবিক কাজগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই এসেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

একটি আধুনিক ও স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে শাবিপ্রবি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। দেশের মধ্যে প্রথম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। ই-স্বাক্ষরযুক্ত সার্টিফিকেট, ই-পেমেন্ট, অনলাইন ক্লিয়ারেন্স, ডি-নথি এবং স্মার্ট অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম এখন অনেক বেশি সহজতর। এছাড়াও ক্যাশলেস ফুড শপ, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল, ইনোভেশন হাব এবং ‘মাইসাস্ট’ অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দৃশ্যমান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সাতটি একাডেমিক ভবন ও ছয়টি আবাসিক হলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটাতে নির্মাণাধীন রয়েছে আরও দুটি বিশাল আবাসিক হল। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন, পিএইচডি ডরমিটরি, নিজস্ব পাওয়ার হাউস এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ অডিটোরিয়াম এই ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধন করছে। সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম ও দৃষ্টিনন্দন রুদ্র সেন লেক ক্যাম্পাসটিকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “শাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। আমাদের লক্ষ্য একে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে আমরা আরও ১৩টি নতুন বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের মহাপরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা আহ্বান এনবিআরের, সময় ১৫ মার্চ

সাফল্যের ৩৬ বছরে শাবিপ্রবি: উদ্ভাবন ও আধুনিকতায় অনন্য এক বিদ্যাপীঠ

আপডেট সময় : ১২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাল্গুনের প্রথম দিনে প্রকৃতি যখন বসন্তের নতুন সাজে সজ্জিত, ঠিক তখনই আনন্দের দ্বিগুণ মাত্রা নিয়ে ৩৬ বছরে পদার্পণ করল দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ৩৫টি বসন্ত পেরিয়ে আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টি তার গৌরবের ৩৬তম বছরে পা রাখল।

১৯৯১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বিদ্যাপীঠ। শুরুর সেই দিনটিতে মাত্র ৩টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক এবং ২০৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও, তিন দশকের ব্যবধানে আজ তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সাতটি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ এবং দুটি ইনস্টিটিউটে ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাঁদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন সাত শতাধিক অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং প্রশাসনিক সহযোগিতায় রয়েছেন ছয় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

দীর্ঘ এই পথচলায় শিক্ষা, গবেষণা এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনে শাবিপ্রবি নিজেকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও প্রতিষ্ঠানটি কুড়িয়েছে অভাবনীয় খ্যাতি। ২০১৮ সালে ‘নাসা স্পেস চ্যালেঞ্জ অ্যাপস’ প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে শুরু করে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড পুরস্কার-১৭’ এবং ‘ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড-২০’ অর্জনের মতো অসংখ্য সাফল্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ঝুলিতে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে শাবিপ্রবির অবদান দেশের জন্য মাইলফলক। দেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ তৈরি, চালকবিহীন ড্রোন আবিষ্কার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’, কথা বলা রোবট ‘রিবো’ ও হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’ এবং ক্যানসার শনাক্তের সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবনের মতো বৈপ্লবিক কাজগুলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই এসেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

একটি আধুনিক ও স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে শাবিপ্রবি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। দেশের মধ্যে প্রথম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা এখনও বিদ্যমান। ই-স্বাক্ষরযুক্ত সার্টিফিকেট, ই-পেমেন্ট, অনলাইন ক্লিয়ারেন্স, ডি-নথি এবং স্মার্ট অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম এখন অনেক বেশি সহজতর। এছাড়াও ক্যাশলেস ফুড শপ, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল, ইনোভেশন হাব এবং ‘মাইসাস্ট’ অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন দৃশ্যমান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সাতটি একাডেমিক ভবন ও ছয়টি আবাসিক হলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটাতে নির্মাণাধীন রয়েছে আরও দুটি বিশাল আবাসিক হল। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন, পিএইচডি ডরমিটরি, নিজস্ব পাওয়ার হাউস এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ অডিটোরিয়াম এই ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধন করছে। সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম ও দৃষ্টিনন্দন রুদ্র সেন লেক ক্যাম্পাসটিকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “শাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। আমাদের লক্ষ্য একে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে আমরা আরও ১৩টি নতুন বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের মহাপরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।”