দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুল আলম এক অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছেন। তিনি বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪ ভোট বেশি পেয়ে তিনি এই ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেন।
এই আসনে ১১-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমীন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। শরীফুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট সংগ্রহ করেন। মোট ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এই আসনে বাজিমাত করেছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা ছিল ৫৭.০৩ শতাংশ। প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি ভোটের এই ব্যবধান সারাদেশে সর্বোচ্চ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক মহলে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুলিয়ারচরের বেতিয়ারকান্দি প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম। তিনি ভৈরব ও কুলিয়ারচরকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের এই অন্ধকার জগৎ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি সৎ পথে ফিরে আসলে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই বিশাল জয়ের পর শরীফুল আলম দৃঢ়ভাবে জানান যে, ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি বা কোনো প্রকার জুলুম তিনি সহ্য করবেন না। তিনি বলেন, “মানুষের ওপর অত্যাচার করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অহংকার আল্লাহ পছন্দ করেন না, আমিও তা করি না। আমি কেবল দলের ভোটে নয়, বরং সব স্তরের মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়েছি।”
প্রায় ২০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং দখলবাজি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি তারেক রহমানের কাছে করা প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি আমার নেতা তারেক রহমানকে বলেছিলাম ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়ে পাস করব। আজ আমি দেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছি।”
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম এর আগেও চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
—
রিপোর্টারের নাম 























