একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে খুলনার একটি ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা ও হট্টগোলের মাঝে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যু ঘিরে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে; বিএনপি ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ তুললেও পুলিশ ও জামায়াত তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
নিহত মহিবুজ্জামান কচি নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনের বাসিন্দা ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল আটটার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই মহিবুজ্জামান কচি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, “সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের পক্ষে প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন। তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে কচি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।” খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুও একই অভিযোগ করে অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমানের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছিল। আমি তাতে বাধা দিতে গেলে তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা আছে, সেটি পরীক্ষা করলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে।” খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়াও জানান, তিনি অন্য কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন তিনি কিছু মহিলাকে বের করে দিতে দেখেন এবং সবাইকে যেতে বলেন। কাউকে ধাক্কা দেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল এই মৃত্যুকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতকে জড়ানো অবান্তর। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগী ছিলেন এবং হৃদরোগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখার আহ্বান জানান তিনিও।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এ সময় একজনকে সিএনজিতে করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ রায় নিশ্চিত করেছেন যে, মহিবুজ্জামান কচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
এই মৃত্যু ঘিরে ভোটকেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনা থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে বিএনপি নেতার মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























