ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-৬: তিন কর্মীকে দণ্ড ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনী কর্মীদের অন্যায়ভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার রাতে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠ সংলগ্ন শহীদ জুনায়েদ চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আব্দুল মান্নান জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে জাল ভোট চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রয়োজনীয় ফি হিসেবে খামে করে ৫০০ টাকা (১০০ টাকার পাঁচটি নোট) দেওয়া হচ্ছিল। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই খামগুলো প্রস্তুতির সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের তিন কর্মীকে মারধর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ধরনের শুনানি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উল্টো জামায়াত কর্মীদের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ড. মান্নান এই ঘটনাকে চরম পক্ষপাতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাল ভোট চ্যালেঞ্জের টাকা রাখা কোনো আইনি অপরাধ নয়, অথচ প্রশাসন অন্যায়ভাবে দণ্ড দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করছে।

জামায়াত প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, জুবিলী স্কুল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কার্ডে স্বাক্ষর করতে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। সেখানে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের এজেন্টদের পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। এই হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, জাবেদ কামাল রুবেল, কাদের ও রানাসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় তাদের ৫ জন পোলিং এজেন্ট আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ড. আব্দুল মান্নান বলেন, যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তারাই পরাজয়ের ভয়ে সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের এমন আচরণ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

ঢাকা-৬: তিন কর্মীকে দণ্ড ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

আপডেট সময় : ১২:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনী কর্মীদের অন্যায়ভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার রাতে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠ সংলগ্ন শহীদ জুনায়েদ চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আব্দুল মান্নান জানান, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে জাল ভোট চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রয়োজনীয় ফি হিসেবে খামে করে ৫০০ টাকা (১০০ টাকার পাঁচটি নোট) দেওয়া হচ্ছিল। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই খামগুলো প্রস্তুতির সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের তিন কর্মীকে মারধর করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ধরনের শুনানি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই উল্টো জামায়াত কর্মীদের কারাদণ্ড প্রদান করেন। ড. মান্নান এই ঘটনাকে চরম পক্ষপাতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাল ভোট চ্যালেঞ্জের টাকা রাখা কোনো আইনি অপরাধ নয়, অথচ প্রশাসন অন্যায়ভাবে দণ্ড দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করছে।

জামায়াত প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, জুবিলী স্কুল কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কার্ডে স্বাক্ষর করতে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। সেখানে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের এজেন্টদের পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকেও মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। এই হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, জাবেদ কামাল রুবেল, কাদের ও রানাসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় তাদের ৫ জন পোলিং এজেন্ট আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ড. আব্দুল মান্নান বলেন, যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তারাই পরাজয়ের ভয়ে সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের এমন আচরণ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন।