লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর এলাকায় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে ১৫ লাখ টাকাসহ জেলা কৃষকদলের এক নেতাকে আটক করা হয়। তবে উদ্ধারকৃত অর্থ নির্বাচনি ব্যয়ের বৈধ তহবিল হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার রাত ৮টার দিকে শহরের ঝুমুর চত্বর এলাকায় তল্লাশি চলাকালীন কৃষকদল নেতা বদরুল আলম শ্যামলের ব্যবহৃত গাড়িটি আটক করা হয়। শ্যামল লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির খালাতো ভাই এবং ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। আটকের সময় গাড়িটিতে নির্বাচনি পোস্টার সাঁটানো ছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় গাড়িটি থামায় পুলিশ। তল্লাশিকালে গাড়ির ভেতর থেকে নগদ ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে জানানো হয়। এরপর আটককৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অর্থ লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) তাহরিনা আক্তার নওরিনের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, আটককৃত অর্থ তাদের নির্বাচনি ফান্ডের টাকা এবং এর সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সব কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কোনো জরিমানা ছাড়াই তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরও সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা মনগড়া তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর খরচ নির্বাহের জন্য এই টাকা বহন করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনি এজেন্ট বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যয়ের জন্য টাকাগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন। কর্তৃপক্ষকে আমরা খরচের হিসাব ও বৈধ নথিপত্র দিয়েছি। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তাদের ছেড়ে দিয়েছে।”
নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যয় এবং তার বৈধ উৎস নিশ্চিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে উদ্ধারকৃত টাকাসহ বদরুল আলম শ্যামলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























