ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নাশকতার মিথ্যা অভিযোগ: খাগড়াছড়িতে জামায়াতের তিন নেতা খালাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবন এলাকায় শারীরিক হামলা, টাকা বিলি ও নাশকতার অভিযোগ তুলে জনরোষ সৃষ্টি করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছেন নির্বাচনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল। বুধবার দুপুরে দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা জজ শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী বিমান জ্যোতি চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন শালবন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির লিটন, সহ-সভাপতি কামরুল হাসান এবং অফিস সম্পাদক নুরুল হক।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শালবন এলাকায় দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পরিদর্শন এবং নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান দেখতে গিয়েছিলেন দলের এই তিন নেতা। এ সময় স্থানীয় বিএনপির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। জামায়াত অভিযোগ করে, তাদের কাছে জোর করে টাকা গুঁজে দিয়ে টাকা বিলির অভিযোগ সাজানোর চেষ্টা করা হয় এবং পেট্রোলের বোতল রেখে নাশকতার মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়কিসুল জানান, পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থল থেকে ওই তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরদিন সকালেই তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য শোনেন এবং ঘটনার স্থান সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত জামায়াতের এই তিন নেতাকে খালাস দেন।

আদালত চত্বরে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী অভিযোগ করেন, জেলাজুড়েই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও নারী কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জনরোষ সৃষ্টি করে মারধর, আটক রাখা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং মানহানির অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

নাশকতার মিথ্যা অভিযোগ: খাগড়াছড়িতে জামায়াতের তিন নেতা খালাস

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবন এলাকায় শারীরিক হামলা, টাকা বিলি ও নাশকতার অভিযোগ তুলে জনরোষ সৃষ্টি করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছেন নির্বাচনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল। বুধবার দুপুরে দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা জজ শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী বিমান জ্যোতি চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন শালবন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির লিটন, সহ-সভাপতি কামরুল হাসান এবং অফিস সম্পাদক নুরুল হক।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শালবন এলাকায় দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পরিদর্শন এবং নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান দেখতে গিয়েছিলেন দলের এই তিন নেতা। এ সময় স্থানীয় বিএনপির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। জামায়াত অভিযোগ করে, তাদের কাছে জোর করে টাকা গুঁজে দিয়ে টাকা বিলির অভিযোগ সাজানোর চেষ্টা করা হয় এবং পেট্রোলের বোতল রেখে নাশকতার মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়কিসুল জানান, পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থল থেকে ওই তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরদিন সকালেই তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য শোনেন এবং ঘটনার স্থান সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত জামায়াতের এই তিন নেতাকে খালাস দেন।

আদালত চত্বরে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী অভিযোগ করেন, জেলাজুড়েই ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও নারী কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তাদের এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জনরোষ সৃষ্টি করে মারধর, আটক রাখা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং মানহানির অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।