ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত: ভোটারদের ভাবনায় উন্নয়ন-কর্মসংস্থান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে এবার ভোটের লড়াইয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু দলীয় প্রতীক বা স্লোগান নয়, উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাই এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আসনগুলোতে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি।

২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন ভোটারের এই জেলায় মোট ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সবার নজর মূলত বিএনপি ও জামায়াতের দিকে। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার সাতটি আসনই ‘উপহার’ হিসেবে দিতে চান। অন্যদিকে, জামায়াত নেতারা অন্তত দুটি আসনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এবং সব আসনেই ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়াকে বিএনপির দুর্গ বলা হলেও, তারেক রহমানের আসন ছাড়া অন্য ছয়টি আসনে এবার দলটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক আসনটিতেও আগের মতো একচেটিয়া ভোট টানতে বেগ পেতে হতে পারে, যা জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন মনে করেন, জোট না থাকায় এবার বিএনপি এক-দুটি আসন হারাতেও পারে। তিনি বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, খালেদা জিয়ার মতো জাতীয় পর্যায়ের নেতার অনুপস্থিতি এই আসনে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অবশ্য এই ধারণাকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, গত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক কারণে বগুড়াকে বঞ্চিত করেছে এবং বিএনপির আমলেই এখানে যত উন্নয়ন হয়েছে। তিনি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটের পরিবেশ মোটামুটি ভালো উল্লেখ করলেও, আইডি কার্ডের ছবি তোলা ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো ঘটনা ভোট কেনাবেচার সন্দেহ তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাদশা দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, বগুড়ার জনগণ তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে সাতটি আসনই উপহার দেবে।’

বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক নির্বাচনে আশাবাদী এবং তাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটাররাও এবার কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত। বগুড়ায় বিভাগ বাস্তবায়ন, প্রথম শ্রেণির সিটি করপোরেশন গঠন, যানজট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সাতমাথায় ওভারব্রিজ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণকে তারা তাদের প্রধান পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ভোট কেনাবেচার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।

সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাশ মনে করেন, বগুড়ায় একচেটিয়াভাবে বিএনপির জনসমর্থন থাকলেও, জামায়াত দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে তাদের মহিলা ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়েছে, যা তাদের ভোট বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি বগুড়া-১ আসনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিএনপির ভোট কমাতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই জিতবে কারণ তাদের ‘পরীক্ষিত এবং গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী রয়েছে।

এবার ভোটারদের মধ্যে কেবল ‘মার্কা’ দেখে ভোট দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রত্যাশী। বগুড়া-৬ আসনের ভোটার ইউনুস শেখ রোহান বলেন, শুধু উন্নয়ন নয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াও জরুরি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তরুণ ভোটার তানভীর হোসেন এমন প্রতিনিধি চান, যিনি শুধু রাজনীতি করবেন না, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবেন। বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের তরুণ ভোটার নজরুল ইসলামের প্রত্যাশা, নতুন সরকার এলে গুম-খুন বন্ধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত, অর্থপাচার রোধ এবং চাকরিতে অনিয়ম বন্ধ হবে। তিনি ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে না ওঠারও আহ্বান জানান। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার প্রীতি সম্মানজনক জীবন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ চেয়েছেন, কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকার অনুরোধ করেছেন।

বগুড়া-১ আসনে নদীভাঙন ও কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রধান ইস্যু। বগুড়া-২ আসনের ভোটাররা উন্নয়ন কাজের হিসাব ও কর্মসংস্থান চাইছেন। বগুড়া-৩ আসনে রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যখাত, ক্রীড়া খাতে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি রয়েছে। বগুড়া-৪, ৫ ও ৭ আসনে কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন, শিল্পপার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তারেক রহমানের আসন বগুড়া-৬ (সদর) এর ভোটাররা যানজট নিরসন ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান চান।

এদিকে, বগুড়ার একমাত্র নারী প্রার্থী বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের দিলরুবা নূরী ‘কোটিপতি, দুর্বৃত্ত আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব নয়, সংসদ হোক গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান’ স্লোগান নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। অন্যদিকে, বগুড়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। অনেকে এটিকে নির্বাচন বিতর্কিত করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিল ইরান

বগুড়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত: ভোটারদের ভাবনায় উন্নয়ন-কর্মসংস্থান

আপডেট সময় : ০৬:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে এবার ভোটের লড়াইয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু দলীয় প্রতীক বা স্লোগান নয়, উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাই এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই আসনগুলোতে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি।

২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন ভোটারের এই জেলায় মোট ৯টি রাজনৈতিক দলের ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সবার নজর মূলত বিএনপি ও জামায়াতের দিকে। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার সাতটি আসনই ‘উপহার’ হিসেবে দিতে চান। অন্যদিকে, জামায়াত নেতারা অন্তত দুটি আসনে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এবং সব আসনেই ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়াকে বিএনপির দুর্গ বলা হলেও, তারেক রহমানের আসন ছাড়া অন্য ছয়টি আসনে এবার দলটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক আসনটিতেও আগের মতো একচেটিয়া ভোট টানতে বেগ পেতে হতে পারে, যা জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন মনে করেন, জোট না থাকায় এবার বিএনপি এক-দুটি আসন হারাতেও পারে। তিনি বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, খালেদা জিয়ার মতো জাতীয় পর্যায়ের নেতার অনুপস্থিতি এই আসনে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অবশ্য এই ধারণাকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, গত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক কারণে বগুড়াকে বঞ্চিত করেছে এবং বিএনপির আমলেই এখানে যত উন্নয়ন হয়েছে। তিনি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটের পরিবেশ মোটামুটি ভালো উল্লেখ করলেও, আইডি কার্ডের ছবি তোলা ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো ঘটনা ভোট কেনাবেচার সন্দেহ তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাদশা দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, বগুড়ার জনগণ তাদের প্রিয় সন্তান তারেক রহমানকে সাতটি আসনই উপহার দেবে।’

বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক নির্বাচনে আশাবাদী এবং তাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটাররাও এবার কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত। বগুড়ায় বিভাগ বাস্তবায়ন, প্রথম শ্রেণির সিটি করপোরেশন গঠন, যানজট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সাতমাথায় ওভারব্রিজ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণকে তারা তাদের প্রধান পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি ভোট কেনাবেচার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব প্রতিপক্ষের অপপ্রচার।

সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গণেশ দাশ মনে করেন, বগুড়ায় একচেটিয়াভাবে বিএনপির জনসমর্থন থাকলেও, জামায়াত দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে তাদের মহিলা ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়েছে, যা তাদের ভোট বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি বগুড়া-১ আসনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিএনপির ভোট কমাতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপিই জিতবে কারণ তাদের ‘পরীক্ষিত এবং গ্রহণযোগ্য’ প্রার্থী রয়েছে।

এবার ভোটারদের মধ্যে কেবল ‘মার্কা’ দেখে ভোট দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রত্যাশী। বগুড়া-৬ আসনের ভোটার ইউনুস শেখ রোহান বলেন, শুধু উন্নয়ন নয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াও জরুরি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তরুণ ভোটার তানভীর হোসেন এমন প্রতিনিধি চান, যিনি শুধু রাজনীতি করবেন না, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবেন। বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের তরুণ ভোটার নজরুল ইসলামের প্রত্যাশা, নতুন সরকার এলে গুম-খুন বন্ধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত, অর্থপাচার রোধ এবং চাকরিতে অনিয়ম বন্ধ হবে। তিনি ‘নতুন ফ্যাসিবাদ’ গড়ে না ওঠারও আহ্বান জানান। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার প্রীতি সম্মানজনক জীবন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ চেয়েছেন, কেবল আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকার অনুরোধ করেছেন।

বগুড়া-১ আসনে নদীভাঙন ও কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রধান ইস্যু। বগুড়া-২ আসনের ভোটাররা উন্নয়ন কাজের হিসাব ও কর্মসংস্থান চাইছেন। বগুড়া-৩ আসনে রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যখাত, ক্রীড়া খাতে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি রয়েছে। বগুড়া-৪, ৫ ও ৭ আসনে কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন, শিল্পপার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তারেক রহমানের আসন বগুড়া-৬ (সদর) এর ভোটাররা যানজট নিরসন ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান চান।

এদিকে, বগুড়ার একমাত্র নারী প্রার্থী বাসদ মনোনীত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের দিলরুবা নূরী ‘কোটিপতি, দুর্বৃত্ত আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব নয়, সংসদ হোক গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠান’ স্লোগান নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। অন্যদিকে, বগুড়া-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। অনেকে এটিকে নির্বাচন বিতর্কিত করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।