আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনকালীন সময়ে, বিশেষ করে ভোটগ্রহণের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে কাঁটাতারের বেড়া মেরামত, নতুন চেকপোস্ট স্থাপন এবং টহল জোরদার করার পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কর্নেল তানভীর আরও জানান, কক্সবাজারের চারটি আসনের প্রত্যন্ত ও দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতেও সেনাবাহিনীর বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে বা এর আশেপাশে অনিয়ম বা সংঘাতের ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির মতো অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে সমন্বিতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না। রামু সেনানিবাসের এই কর্মকর্তা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন বলেও আশ্বাস দেন।
এর আগে, এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুতফা জামান গত কয়েকদিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথবাহিনীর অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ৪৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল সংখ্যক দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, আলোচিত হত্যা মামলার আসামিদের পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারী ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















