ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চার কোটি টাকা লেনদেন স্থগিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নাটোর: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ঢাকা থেকে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় প্রায় চার কোটি টাকার একটি অর্থ লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে এই বিশেষ লেনদেনটি মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়নি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার ব্যবস্থাপককে জরুরি তলব করেন। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন, আপাতত এই লেনদেন স্থগিত রাখতে এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। এই নির্দেশের ফলে নির্ধারিত চার কোটি টাকার লেনদেনটি মঙ্গলবার আর সম্পন্ন হয়নি।

অন্যদিকে, নাটোর আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহজনকভাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই খবর জানার পর তিনি অবিলম্বে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লেনদেনটি স্থগিত রাখার আবেদন জানান।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর ফলেই ওই দিন লেনদেনটি আটকে যায়। অ্যাডভোকেট দুলু আরও বলেন, “নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে এত বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক। এই অর্থ ভোট কেনাবেচায় ব্যবহৃত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে এই লেনদেন স্থগিত রাখাটাই যুক্তিসঙ্গত।”

তবে, ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “চার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের জন্য কোনো বড় লেনদেন নয়। যেহেতু ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে, তাই আমাদের ৯টি এটিএম বুথে নগদ টাকা সরবরাহের জন্য এই টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এই লেনদেনে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় এ ধরনের লেনদেন প্রায়শই হয়ে থাকে।”

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার জানিয়েছেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ডেকে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। তিনি এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ভোটের আগে মঙ্গলবার ছিল শেষ কর্মদিবস, তাই আপাতত লেনদেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচনের পর ব্যাংক খুললে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্যালয় খুললেন খাগড়াছড়ি আ.লীগের নেতাকর্মীরা

নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চার কোটি টাকা লেনদেন স্থগিত

আপডেট সময় : ১১:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটোর: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ঢাকা থেকে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় প্রায় চার কোটি টাকার একটি অর্থ লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে এই বিশেষ লেনদেনটি মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়নি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার ব্যবস্থাপককে জরুরি তলব করেন। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন, আপাতত এই লেনদেন স্থগিত রাখতে এবং ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। এই নির্দেশের ফলে নির্ধারিত চার কোটি টাকার লেনদেনটি মঙ্গলবার আর সম্পন্ন হয়নি।

অন্যদিকে, নাটোর আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহজনকভাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই খবর জানার পর তিনি অবিলম্বে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লেনদেনটি স্থগিত রাখার আবেদন জানান।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর ফলেই ওই দিন লেনদেনটি আটকে যায়। অ্যাডভোকেট দুলু আরও বলেন, “নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে এত বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক। এই অর্থ ভোট কেনাবেচায় ব্যবহৃত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে এই লেনদেন স্থগিত রাখাটাই যুক্তিসঙ্গত।”

তবে, ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “চার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের জন্য কোনো বড় লেনদেন নয়। যেহেতু ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে, তাই আমাদের ৯টি এটিএম বুথে নগদ টাকা সরবরাহের জন্য এই টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এই লেনদেনে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় এ ধরনের লেনদেন প্রায়শই হয়ে থাকে।”

অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার জানিয়েছেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ডেকে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। তিনি এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ভোটের আগে মঙ্গলবার ছিল শেষ কর্মদিবস, তাই আপাতত লেনদেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচনের পর ব্যাংক খুললে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।