ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

বরগুনা-১: আওয়ামী ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থনের উপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বরগুনা-১ আসন, যা বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার সরাসরি আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকলেও দলটির সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণে মুখ্য হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ভোটার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত বিজয় তারই বরণ করার সম্ভাবনা বেশি। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠীগুলোর বেশিরভাগই এখনও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন না, যা নির্বাচনের ফলাফলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সামান্য ব্যবধানও এই আসনে শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং চরমোনাই পীরের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের সকলেরই বাড়ি বরগুনা সদরে।

তবে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং জোটবিহীন চরমোনাই পীরের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, ভোটারদের ধারণা অনুযায়ী তাদের প্রচার ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫1 জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ জন, যা বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ে প্রায় ২৪ হাজার বেশি। এই দুটি উপজেলার ভোটারদের রায়ই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বেশ কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি নারী ও তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে সক্রিয় করেছেন। জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। ধানের শীষের পক্ষে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক কাজ করব।”

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, “বর্তমান ভোটাররা সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা শুধু দলীয় ভোটের উপর নির্ভর করছি না, বরং সব সম্প্রদায়ের ভোটারের সমর্থন প্রত্যাশা করি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল নাগরিককে নিয়ে একসাথে কাজ করব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্যালয় খুললেন খাগড়াছড়ি আ.লীগের নেতাকর্মীরা

বরগুনা-১: আওয়ামী ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থনের উপর নির্ভর করছে জয়-পরাজয়

আপডেট সময় : ১০:৪১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরগুনা-১ আসন, যা বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার সরাসরি আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকলেও দলটির সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণে মুখ্য হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ভোটার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত বিজয় তারই বরণ করার সম্ভাবনা বেশি। তবে, এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠীগুলোর বেশিরভাগই এখনও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন না, যা নির্বাচনের ফলাফলকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সামান্য ব্যবধানও এই আসনে শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং চরমোনাই পীরের প্রার্থী কেওড়াবুনিয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এই আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বিজয়ী হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম সরওয়ার টুকু বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের সকলেরই বাড়ি বরগুনা সদরে।

তবে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং জোটবিহীন চরমোনাই পীরের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন (দেয়াল ঘড়ি) এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী জামাল হোসাইন (সাইকেল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, ভোটারদের ধারণা অনুযায়ী তাদের প্রচার ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে কম। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫1 জন। এর মধ্যে পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ের আমতলী ও তালতলী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ জন, যা বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ে প্রায় ২৪ হাজার বেশি। এই দুটি উপজেলার ভোটারদের রায়ই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্য বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বেশ কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি নারী ও তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্ত্রী লুবনা ইসলাম ও ছেলে উচ্ছ্বাস মোল্লাকে মাঠে সক্রিয় করেছেন। জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়ে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনা-১ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। ধানের শীষের পক্ষে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক কাজ করব।”

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, “বর্তমান ভোটাররা সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব চান। আমরা শুধু দলীয় ভোটের উপর নির্ভর করছি না, বরং সব সম্প্রদায়ের ভোটারের সমর্থন প্রত্যাশা করি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সকল নাগরিককে নিয়ে একসাথে কাজ করব।”