সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ দীর্ঘ দেড় বছরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে থানাটিতে হামলা চালিয়ে এসব অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পার হলেও অস্ত্রের হদিস না মেলায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দেশব্যাপী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই সুযোগে থানা থেকে বেশ কিছু অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি লুট করা হয়। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও লুট হওয়া সেই মারণাস্ত্রগুলোর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
হাটিকুমরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে ৪টি চায়না রাইফেল, ২টি পিস্তল ও ২টি গ্যাসগানসহ মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেড় শতাধিক গুলি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সলঙ্গা থানায় একটি বিস্ফোরক মামলা (মামলা নং- ১২) দায়ের করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই অস্ত্রগুলো কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, লুণ্ঠিত অস্ত্র যদি কোনো অপরাধী চক্র বা স্বার্থান্বেষী মহলের হাতে চলে যায়, তবে বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঠিক কতগুলো অস্ত্র লুট হয়েছিল তার সঠিক পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে নিশ্চিত করা না গেলেও, আসন্ন নির্বাচনে এসব অস্ত্র বড় কোনো প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করছেন না।
এদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সহিংসতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই ইস্যুটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটিকুমরুল এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধ অস্ত্র হাতে থাকলে নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে যেতে সাধারণ মানুষ ভয় পাবে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ভোটের আগেই এসব অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিলম্ব হওয়া পুরো জেলার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা এবং সাঁড়াশি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 




















