ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সন্দ্বীপে ব্যাকআপহীন সিসিটিভি: ভোট লুটের শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

## সন্দ্বীপে ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি: বিদ্যুৎ বিভ্রাটেই অচল, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সন্দ্বীপ, [আজকের তারিখ]: আসন্ন নির্বাচনে সন্দ্বীপে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কোনো পাওয়ার ব্যাকআপ বা অফলাইন স্টোরেজের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেই ক্যামেরাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে “ডিজিটাল নিরাপত্তা” নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর বলে মনে করছেন অনেকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এই ক্যামেরাগুলো নিছক “প্লাস্টিকের খেলনা”য় পরিণত হবে এবং নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বা কারচুপির ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ড করা সম্ভব হবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক রিমন আল ফাহাদ এই পরিস্থিতিকে প্রশাসনের “চরম গাফিলতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “পাওয়ার ব্যাকআপহীন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো কেবল লোক দেখানো আয়োজন নয়, এটি এক ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। সন্দ্বীপের মতো বিদ্যুৎ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাকআপ ছাড়া ক্যামেরা বসানো মানে অপরাধীদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দেওয়া। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এসব ক্যামেরা অন্ধ পাহারাদারে পরিণত হবে।”

তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সচল থাকবে বলে তিনি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

কিন্তু, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্র মনিটরিং টিমের একাধিক সদস্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ চলে গেলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এই ক্যামেরাগুলোতে কোনো ইউপিএস বা অফলাইন স্টোরেজ না থাকায় লাইভ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে না। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যাকআপ গ্রিড ও ইমার্জেন্সি টিম প্রস্তুত থাকবে। তবে, সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, তারা সতর্ক অবস্থায় আছেন। তবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসিটিভি অকেজো হলে বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সিসিটিভির এই ব্যাকআপহীন অবস্থার কথা সন্দ্বীপের কোনো প্রার্থীকে জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার পর একাধিক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহায়েদুল মাওলা এটিকে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা বন্ধ অবস্থায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তারা সেই কেন্দ্রসহ সামগ্রিক নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করবেন।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা সিসিটিভির এই সীমাবদ্ধতাকে কোনো ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন।

সন্দ্বীপে ভোটের দিন বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকে, সেদিকেই এখন সবার নজর। এই প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্দ্বীপে ব্যাকআপহীন সিসিটিভি: ভোট লুটের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## সন্দ্বীপে ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি: বিদ্যুৎ বিভ্রাটেই অচল, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সন্দ্বীপ, [আজকের তারিখ]: আসন্ন নির্বাচনে সন্দ্বীপে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কোনো পাওয়ার ব্যাকআপ বা অফলাইন স্টোরেজের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেই ক্যামেরাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে “ডিজিটাল নিরাপত্তা” নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর বলে মনে করছেন অনেকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এই ক্যামেরাগুলো নিছক “প্লাস্টিকের খেলনা”য় পরিণত হবে এবং নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বা কারচুপির ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ড করা সম্ভব হবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক রিমন আল ফাহাদ এই পরিস্থিতিকে প্রশাসনের “চরম গাফিলতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “পাওয়ার ব্যাকআপহীন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো কেবল লোক দেখানো আয়োজন নয়, এটি এক ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। সন্দ্বীপের মতো বিদ্যুৎ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাকআপ ছাড়া ক্যামেরা বসানো মানে অপরাধীদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দেওয়া। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এসব ক্যামেরা অন্ধ পাহারাদারে পরিণত হবে।”

তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সচল থাকবে বলে তিনি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

কিন্তু, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্র মনিটরিং টিমের একাধিক সদস্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ চলে গেলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এই ক্যামেরাগুলোতে কোনো ইউপিএস বা অফলাইন স্টোরেজ না থাকায় লাইভ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে না। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন দাবি করেছেন, নির্বাচনের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যাকআপ গ্রিড ও ইমার্জেন্সি টিম প্রস্তুত থাকবে। তবে, সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর জানিয়েছেন, তারা সতর্ক অবস্থায় আছেন। তবে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসিটিভি অকেজো হলে বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সিসিটিভির এই ব্যাকআপহীন অবস্থার কথা সন্দ্বীপের কোনো প্রার্থীকে জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার পর একাধিক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহায়েদুল মাওলা এটিকে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা বন্ধ অবস্থায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তারা সেই কেন্দ্রসহ সামগ্রিক নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করবেন।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা সিসিটিভির এই সীমাবদ্ধতাকে কোনো ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন।

সন্দ্বীপে ভোটের দিন বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকে, সেদিকেই এখন সবার নজর। এই প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।