ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনি ডামাডোলের সুযোগে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট: সীমান্তে বাড়ছে পাচার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। নির্বাচনি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ব্যস্ততাকে পুঁজি করে সীমান্ত দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদকের ছোট-বড় অসংখ্য চালান। নজরদারির ফাঁকফোকর গলে মরণনেশা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার অন্তত অর্ধশত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পথে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য। শুধু মাদকই নয়, শাড়ি-কাপড় ও থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যও আসছে অবৈধ পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকাগুলো চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও থ্রি-হুইলারে করে অত্যন্ত সুকৌশলে এসব মাদক পাচার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী, জোংরা; হাতীবান্ধার ভুটিমঙ্গল, দৈখাওয়া; কালীগঞ্জের শিয়ালখাওয়া; আদিতমারীর দুর্গাপুর ও সদরের কুলাঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্ট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত থেকে আনা মাদক প্রথমে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মজুত করা হয় এবং পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহর ও মফস্বলের পাড়া-মহল্লায়। মাদকের এই সহজলভ্যতায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে ছোটখাটো চালানসহ বহনকারীদের আটক করলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে মাদক নির্মূল করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত এসব সিন্ডিকেট শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে যুবসমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও খুনের মতো অপরাধ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে আরও সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অশুভ শক্তি প্রভাব ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনি ডামাডোলের সুযোগে সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট: সীমান্তে বাড়ছে পাচার

আপডেট সময় : ০৭:১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই ডামাডোলের সুযোগ নিয়ে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। নির্বাচনি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ব্যস্ততাকে পুঁজি করে সীমান্ত দিয়ে দেদার ঢুকছে মাদকের ছোট-বড় অসংখ্য চালান। নজরদারির ফাঁকফোকর গলে মরণনেশা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার অন্তত অর্ধশত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পথে আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্য। শুধু মাদকই নয়, শাড়ি-কাপড় ও থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যও আসছে অবৈধ পথে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকাগুলো চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও থ্রি-হুইলারে করে অত্যন্ত সুকৌশলে এসব মাদক পাচার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী, জোংরা; হাতীবান্ধার ভুটিমঙ্গল, দৈখাওয়া; কালীগঞ্জের শিয়ালখাওয়া; আদিতমারীর দুর্গাপুর ও সদরের কুলাঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্ট মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত থেকে আনা মাদক প্রথমে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মজুত করা হয় এবং পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহর ও মফস্বলের পাড়া-মহল্লায়। মাদকের এই সহজলভ্যতায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে ছোটখাটো চালানসহ বহনকারীদের আটক করলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে মাদক নির্মূল করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, দ্রুত এসব সিন্ডিকেট শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে যুবসমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও খুনের মতো অপরাধ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে আরও সমন্বিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের এই পরিস্থিতি নিয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অশুভ শক্তি প্রভাব ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।