আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে উৎসবের আমেজ থাকলেও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা উদ্বেগ। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, বিশেষ করে বিএনপি প্রার্থী এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন কমিশন ও সরকার কর্তৃক গৃহীত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।
মোট ১১৮টি ভোট কেন্দ্রকে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে মুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এই আসনে মোট ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ২৬৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ১১৮টি কেন্দ্রের ৭শ’ ৭৩টি বুথে তারা ভোট দেবেন। এরই মধ্যে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ৬৫১ জন নারীসহ মোট ৯ হাজার ৩শ’ ৬৭ জন প্রবাসী এবং সরকারি চাকুরিজীবী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নির্বাচনী এলাকার ৫১টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি কেন্দ্রকে “অতি ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়া নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো উপজেলায় ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন র্যাব, ২৯৮ জন পুলিশ এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও, ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকবেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭শ’ ৩৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১৪শ’ ৭৪ জন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও ভোটকেন্দ্রগুলোর উপর নজরদারি রাখবেন। নির্বাচন চলাকালে কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি এক ধরনের শঙ্কাও কাজ করছে। ভোটের প্রচারণার সময় ঘটে যাওয়া কিছু সহিংসতার ঘটনা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চলমান বাদানুবাদ ভোটারদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে মূল বিএনপি প্রার্থীর বৈরী সম্পর্ক ভোটারদের ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি ভোটকেন্দ্রগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারার আনন্দও অনেক ভোটারের মাঝে বিদ্যমান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী ফরিদগঞ্জ উপজেলার অনেক নাগরিক “ঈদের উৎসবের মতো” বাড়ি ফিরেছেন ভোট দেওয়ার জন্য। এমনকি অনেক প্রবাসীও এবার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে দেশে এসেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোট দেওয়ার এই সুযোগ যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লালসার শিকার না হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























