আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে সিলেট-১ আসনে (মহানগর ও সদর) মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণ সংক্রান্ত অপপ্রচারের পাল্টা অভিযোগ এনেছে জামায়াত। সোমবার পৃথকভাবে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন। বিএনপির দাবি, গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজেকে কোনো কোম্পানির পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার কিংবা কোনো কোম্পানির ঋণ বা দায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে ঘোষণা করেছেন। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের তথ্য গোপন করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO)-এর ১২(১)(এম) ও ১২(৩বি) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য বলে মনে করে বিএনপি।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে (মহানগর ও সদর) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, নিজেদের প্রার্থীর বিপুল অঙ্কের ঋণের তথ্য আড়াল করতেই মাওলানা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া ঋণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটাররা যদি নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে ১১ দলীয় জোটের বিজয় নিশ্চিত। এই বাস্তবতা বুঝেই প্রতিপক্ষ মিথ্যাচার ও অপপ্রচারে নেমেছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সাবেক সিটি মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সঙ্গে মাওলানা হাবিবুর রহমানের কোনো ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব কখনো ছিল না।
রিপোর্টারের নাম 
























