ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

পাবনা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ১৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার। সোমবার বিকেলে সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে ১৬ দফা সমৃদ্ধ এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।

জনসমাবেশে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার নিজেই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরেন। ঘোষিত ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো:

১. ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২৪-এর বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
২. শিক্ষার মানোন্নয়নে কৃষি ইনস্টিটিউট ও ফিশারিজ কলেজ স্থাপন, কলেজগুলোতে অনার্স বিষয় ও সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও গুণগত উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, গবেষণা ও ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন।
৩. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
৪. পৌরসভাগুলোকে প্রকৃত অর্থে আধুনিকায়ন করে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সমস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ।
৬. যুবক ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ। কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরি। এআই, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং হাব, আউটসোর্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্টের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।
৭. কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সুদ মুক্ত কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া। প্রয়োজনে খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, বিলের উন্নয়ন এবং কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
৮. পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
৯. আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘু ও সুবিধা-বঞ্চিতদের অধিকার নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী ও শিশু কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন, সহিংসতা রোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
১১. যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচারে উদ্যোগ গ্রহণ। খেলাধুলার জন্য তিনটি উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণ।
১২. জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
১৩. নদী এলাকার সেবার মান বৃদ্ধি।
১৪. শ্রমিক সেবার জন্য শ্রমিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
১৫. রেমিটেন্স যোদ্ধা সহ যুবকদের নানামুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং হয়রানিমুক্তভাবে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ আদান-প্রদানসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা।
১৬. সুস্থ সংস্কৃতি প্রচার ও বিকাশের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সকলের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

জনসমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফ্ফার খান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেম, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এজিএস সামিউল হাসান, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হুরায়রা রিদয় প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় আ.লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের পর ভাঙচুর-আগুন, আটক ৩

পাবনা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ১৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার। সোমবার বিকেলে সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে ১৬ দফা সমৃদ্ধ এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।

জনসমাবেশে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার নিজেই তার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরেন। ঘোষিত ইশতেহারের মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো:

১. ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২৪-এর বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
২. শিক্ষার মানোন্নয়নে কৃষি ইনস্টিটিউট ও ফিশারিজ কলেজ স্থাপন, কলেজগুলোতে অনার্স বিষয় ও সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও গুণগত উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, গবেষণা ও ভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন।
৩. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সামগ্রীর ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
৪. পৌরসভাগুলোকে প্রকৃত অর্থে আধুনিকায়ন করে প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি।
৫. যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সমস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ।
৬. যুবক ও বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ। কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরি। এআই, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ফ্রিল্যান্সিং হাব, আউটসোর্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্টের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ।
৭. কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সুদ মুক্ত কৃষি ঋণসহ সকল ধরনের সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া। প্রয়োজনে খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, বিলের উন্নয়ন এবং কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
৮. পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা।
৯. আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘু ও সুবিধা-বঞ্চিতদের অধিকার নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী ও শিশু কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন, সহিংসতা রোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
১১. যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রচারে উদ্যোগ গ্রহণ। খেলাধুলার জন্য তিনটি উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণ।
১২. জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
১৩. নদী এলাকার সেবার মান বৃদ্ধি।
১৪. শ্রমিক সেবার জন্য শ্রমিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
১৫. রেমিটেন্স যোদ্ধা সহ যুবকদের নানামুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং হয়রানিমুক্তভাবে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ আদান-প্রদানসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা।
১৬. সুস্থ সংস্কৃতি প্রচার ও বিকাশের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সকলের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।

জনসমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফ্ফার খান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাশেম, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এজিএস সামিউল হাসান, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু হুরায়রা রিদয় প্রমুখ।