ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভোটের আগে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’: রাজনৈতিক কৌশল নাকি গভীর কোনো সংকট?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, বড় দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুর তত তীক্ষ্ণ হচ্ছে। বিএনপি সরাসরি আঙুল তুলছে জামায়াতে ইসলামীর দিকে, আর জামায়াত বলছে—নিজেরা সুবিধা করতে না পেরে বিএনপিই এখন ‘বায়বীয়’ অভিযোগ তুলছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ধরন:

  • বিএনপি: গত ৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তোলে দলটি। বিএনপির মুখপাত্র মাহদী আমিন লক্ষ্মীপুরে ‘ভোটের জাল সিল’ তৈরির অভিযোগ করেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা আব্বাসও বিভিন্ন সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অতীতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিণতি ভালো হয়নি।
  • জামায়াতে ইসলামী: দলটির মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “বিএনপি যে কাজগুলো করছে, সেগুলো হালাল করার জন্য আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।” তিনি উল্টো চক্রান্তের আশঙ্কা জানিয়ে জনগণকে ভোট কেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • অন্যান্য দল: জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের চোখে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’:

রাজনীতির বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান এই পরিস্থিতির দুটি প্রধান কারণ দেখছেন।

১. প্রশাসনের বিতর্কিত অবস্থান: অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে প্রশাসন সাজিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুরুতেই একটি বিতর্কিত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
২. পরাভবের আগাম অজুহাত: অধ্যাপক শাহানের মতে, দলগুলো এখন থেকেই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দটির চর্চা করছে যাতে নির্বাচনের ফল নিজেদের বিপক্ষে গেলে তা প্রত্যাখ্যান করার একটি যুৎসই অজুহাত আগে থেকেই জনগণের মাথায় গেঁথে দেওয়া যায়। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান:

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ একাধিকবার আশ্বস্ত করেছেন যে, এবারের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ নেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোট হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী মনে করেন, দলগুলো মূলত কমিশনকে ‘চাপে রাখার কৌশল’ হিসেবে আগাম এসব অভিযোগ তুলছে।

নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন বাকি থাকতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই চরম অবিশ্বাসের দেয়াল শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

ভোটের আগে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’: রাজনৈতিক কৌশল নাকি গভীর কোনো সংকট?

আপডেট সময় : ০১:১৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, বড় দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুর তত তীক্ষ্ণ হচ্ছে। বিএনপি সরাসরি আঙুল তুলছে জামায়াতে ইসলামীর দিকে, আর জামায়াত বলছে—নিজেরা সুবিধা করতে না পেরে বিএনপিই এখন ‘বায়বীয়’ অভিযোগ তুলছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ধরন:

  • বিএনপি: গত ৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তোলে দলটি। বিএনপির মুখপাত্র মাহদী আমিন লক্ষ্মীপুরে ‘ভোটের জাল সিল’ তৈরির অভিযোগ করেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা আব্বাসও বিভিন্ন সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অতীতে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিণতি ভালো হয়নি।
  • জামায়াতে ইসলামী: দলটির মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “বিএনপি যে কাজগুলো করছে, সেগুলো হালাল করার জন্য আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।” তিনি উল্টো চক্রান্তের আশঙ্কা জানিয়ে জনগণকে ভোট কেন্দ্র পাহারার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • অন্যান্য দল: জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকও কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের চোখে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’:

রাজনীতির বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান এই পরিস্থিতির দুটি প্রধান কারণ দেখছেন।

১. প্রশাসনের বিতর্কিত অবস্থান: অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে প্রশাসন সাজিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুরুতেই একটি বিতর্কিত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
২. পরাভবের আগাম অজুহাত: অধ্যাপক শাহানের মতে, দলগুলো এখন থেকেই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দটির চর্চা করছে যাতে নির্বাচনের ফল নিজেদের বিপক্ষে গেলে তা প্রত্যাখ্যান করার একটি যুৎসই অজুহাত আগে থেকেই জনগণের মাথায় গেঁথে দেওয়া যায়। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান:

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ একাধিকবার আশ্বস্ত করেছেন যে, এবারের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ নেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ভোট হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী মনে করেন, দলগুলো মূলত কমিশনকে ‘চাপে রাখার কৌশল’ হিসেবে আগাম এসব অভিযোগ তুলছে।

নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন বাকি থাকতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই চরম অবিশ্বাসের দেয়াল শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।