নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় বেনু রাজ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসম্প্রদায়ভিত্তিক সহিংসতায় জর্জরিত এই অঞ্চলে নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাগুলো তীব্র ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ইবি অ্যান্ড্রু নিশ্চিত করেছেন, গত শুক্রবার বিকেলে বেনু রাজ্যের কোয়ান্ডে এলাকার আনওয়াসে গ্রামের একটি জনাকীর্ণ বাজারে সশস্ত্র ডাকাতরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১৩ জন নিরীহ ব্যবসায়ী প্রাণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাজারে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তারা দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন। এই তাণ্ডবে বহু দোকানপাট ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহতদের পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এর কয়েক দিন আগে, পার্শ্ববর্তী মবাইকিয়র শহরের বাজারেও একই ধরনের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রের খবরে এই তথ্য জানা গেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেনু রাজ্যে সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম ফুলানি পশুপালক এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান কৃষকদের মধ্যে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদিও এই ঘটনাগুলোকে প্রায়শই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে এর পেছনে আরও গভীর কারণ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জমির সংকট, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং সহিংসতা দমনে নাইজেরীয় সরকারের কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























