ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার: ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি, পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি দেশ পুনর্গঠনের বার্তা দিয়েছেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই সফরে তিনি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোটের হারানো অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। তিনি এই নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।

বিএনপি চেয়ারম্যান দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহজে ঋণ, সার ও ফসলের বীজ পেতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। দেশের উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চিনিকলসহ এ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, হিমাগার তৈরি (যাতে কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন) এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি হাব তৈরির চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণের পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকার বিমানবন্দর চালু করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা শেষে গতকাল নীলফামারী বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের কথা স্মরণ করেন। নীলফামারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ এলাকার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সম্প্রসারণ করা হবে। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এ এলাকার প্রাণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একটি দল হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করছে; ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করবে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দিনাজপুরে নিজের নানিবাড়ি এবং এ এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই। এ এলাকার মানুষ আমাকে আপনজন মনে করেন। আমি আশা করি তারা এবার আমাকে বিজয়ী করবেন।”

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারিভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভান্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী উল্লেখ করে তিনি কাটারিভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ এবং দিনাজপুরের লিচুর বিশেষত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে কৃষি ও কৃষক অবহেলার শিকার হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্তু কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে। জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি সঞ্চালনা করেন। পরে তারেক রহমান দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে জনতার প্রতি তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। প্রথম দফায় তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় জনসভা করেন। গত ২৯ জানুয়ারি সড়কপথে উত্তরাঞ্চলে যান তিনি। ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি রংপুর, ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এবং ২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ও ফরিদপুরে নির্বাচনি জনসভা করেন। গতকাল ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে জনসভা করার মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার বাইরে মোট ২৭টি নির্বাচনি জনসভা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া, নিজের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭-এর কড়াইল ও বনানীতে দুটি নির্বাচনি সমাবেশও করেন তিনি।

এদিকে, সারা দেশে নির্বাচনি প্রচার শেষ করে তারেক রহমান ঢাকা মহানগরে ১৪টি নির্বাচনি জনসভা করবেন। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আজ রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি নির্বাচনি আসনে জনসভায় যোগ দেবেন। পরদিন সোমবার মোট আটটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার: ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি, পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি দেশ পুনর্গঠনের বার্তা দিয়েছেন এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই সফরে তিনি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণ, শিল্পায়ন ও কৃষি খাতের উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোটের হারানো অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। তিনি এই নির্বাচনকে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।

বিএনপি চেয়ারম্যান দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহজে ঋণ, সার ও ফসলের বীজ পেতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। দেশের উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চিনিকলসহ এ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, হিমাগার তৈরি (যাতে কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন) এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি হাব তৈরির চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া, মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণের পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকার বিমানবন্দর চালু করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা শেষে গতকাল নীলফামারী বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের কথা স্মরণ করেন। নীলফামারীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ এলাকার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সম্প্রসারণ করা হবে। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এ এলাকার প্রাণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একটি দল হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করছে; ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করবে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দিনাজপুরে নিজের নানিবাড়ি এবং এ এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই। এ এলাকার মানুষ আমাকে আপনজন মনে করেন। আমি আশা করি তারা এবার আমাকে বিজয়ী করবেন।”

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারিভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভান্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী উল্লেখ করে তিনি কাটারিভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ এবং দিনাজপুরের লিচুর বিশেষত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে কৃষি ও কৃষক অবহেলার শিকার হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্তু কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরুকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে। জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি সঞ্চালনা করেন। পরে তারেক রহমান দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে জনতার প্রতি তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। প্রথম দফায় তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় জনসভা করেন। গত ২৯ জানুয়ারি সড়কপথে উত্তরাঞ্চলে যান তিনি। ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি রংপুর, ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল এবং ২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ও ফরিদপুরে নির্বাচনি জনসভা করেন। গতকাল ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে জনসভা করার মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার বাইরে মোট ২৭টি নির্বাচনি জনসভা সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া, নিজের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭-এর কড়াইল ও বনানীতে দুটি নির্বাচনি সমাবেশও করেন তিনি।

এদিকে, সারা দেশে নির্বাচনি প্রচার শেষ করে তারেক রহমান ঢাকা মহানগরে ১৪টি নির্বাচনি জনসভা করবেন। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আজ রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি নির্বাচনি আসনে জনসভায় যোগ দেবেন। পরদিন সোমবার মোট আটটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।