রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ ও এর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের ঘেরাও কর্মসূচি এবং ছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ কর্মচারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে বেলা ১১টার দিকে ‘যমুনা’ অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।
আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। একইসঙ্গে জলকামান ব্যবহার করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের এই অ্যাকশনে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন এবং পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাধার মুখেও কিছু আন্দোলনকারী যমুনার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
অন্যদিকে, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ছিল। কিন্তু কর্মচারীদের মিছিল ও পুলিশের হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকায় সভা-সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে যমুনা, কাকরাইল ও শাহবাগসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ছয় প্লাটুন বিজিবি। পাশাপাশি ডিএমপির অতিরিক্ত ফোর্স ও র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে তা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবিতে তারা দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে তারা টানা কয়েক দিন কর্মবিরতি পালন করেছেন এবং আজ শুক্রবার সকালেও দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি দপ্তরে কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















